বাংলা শব্দভাণ্ডার : দেশী উপাদান
Abstract
বাংলা ভাষার ইতিহাসে ‘অনার্য’ এবং ‘বৈদেশিক' প্রভাবের কথা প্রচলিত আছে। আলোচ্য প্রবন্ধে 'অনার্য প্রভাব' নামকরণের যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করে একে দেশী প্রভাব বলা হয়েছে। আর্যভাষা প্রচলনের পূর্বে বাংলাদেশে বসবাসরত অনার্যদের ভাষাকে “দেশী” ভাষা বলে চিহ্নিত করা উচিত বলে আমাদের ধারণা। আর্য আগমনের পূর্বে বাংলাদেশে যে অনার্য বসতি ছিল তা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনার্য জাতির বসবাস দেখে অনুমান করা যায় বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের অনার্য ভাষার আর একটি প্রমাণ পাওয়া যায় বাংলার গ্রাম আর পল্লীর নাম থেকে, যেমন কনামৌচিকা > কানাঘুড়ি ইত্যাদি। এ ছাড়া সংস্কৃত ও প্রাকৃতে গৃহীত চঙ্গ, পোট, লড্ডুক, তিন্তিড়ি প্রভৃতি শব্দের গঠন দেখলে বোঝা যায় যে এগুলি কোনক্রমেই আর্য শব্দ নয়। আর্যভাষীরা যখন ভারতবর্ষে এসে অভিনিবিষ্ট হন তখন দ্রাবিড় ভাষা এদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত; তবে তদানিন্তন — বঙ্গদেশে যে অনার্য জাতির বসবাস ছিল তারা দ্রাবিড় ছিলেন কিনা সন্দেহ। সমস্ত বঙ্গদেশে তখন কোলদের ( অস্ট্রিক ) সমজাতীয় অনার্য জাতি বাস করত বলে ধারণা করা হয় ৷ ভোটচীনীয় গোষ্ঠীর ভাষা আরও দক্ষিণে প্রচলিত ছিল। বাংলাদেশে প্রচলিত কোল বা মুড়া, সাঁওতাল, কুরকু প্রভৃতি অস্ট্রিক ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ; বর্মী, তিব্বতী, গারো প্রভৃতি ভোট চীন ভাষা গোষ্ঠীর অন্তর্গত। পরলোকগত বিজয়চন্দ্র মজুমদারের ইংরেজী ভাষায় লিখিত বাংলা ভাষার ইতিহাস গ্রন্থের পঞ্চম পরিচ্ছেদে বাংলা ভাষায় দ্রাবিড় প্রভাব সম্বন্ধে আলোচনা রয়েছে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1987 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.