বাংলা কবিতার ক্লান্তি-পর্ব : শায়ের ও কবিওয়ালা

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v30i3.2

Authors

  • সাইদুর রহমান ভূঁইয়া Author

Abstract

১৭৫৭ থেকে ১৮৫৭ খৃষ্টাব্দে, মাইকেল মধুসুদন দত্ত ও বিহারীলাল চক্রবর্তীর আবির্ভাবের অব্যবহিত পূর্বে সিপাহী বিপ্লব পর্যন্ত পরাধীনতার প্রথম একশত বৎসরের ঘটনাবলী বাংলাদেশের জন্য তো অবশ্যই, সমগ্র উপমহাদেশের অনাগত ভবিষ্যতের জটিল ও মানবতা-বিরোধী দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় দুর্ভাগ্যের নিয়ামকরূপে বর্তমানকালের পাঠকের কাছে অতীব গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্যে, সঙ্গতকারণেই পুনর্বিবেচিত হওয়া অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। কারণ রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের ফলে সমগ্র বাংলাদেশের জন্য এ সময়টা ছিল আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ও সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে যুগপৎ এক কান্তি পর্ব ও সন্ধি যুগ। অর্থাৎ মধ্যযুগ থেকে আধুনিকতায় উত্তরণে অবক্ষয়, বিবর্তন ও প্রস্তুতির যুগ। তবে ১৭৫৭ খৃষ্টাব্দে বাংলার স্বাধীনতার পতন হলেও বিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হতে সময় লেগেছিল প্রায় আরো পঞ্চাশ বৎসর (মধ্যযুগের প্রেক্ষিতে সময়টা অবশ্যই খুব সামান্য )। পলাশীর যুদ্ধে ইস্ট-ইণ্ডিয়া কোম্পানীর কর্মকর্তাদের মনে যেমন, তেমন তাদের এদেশীয় সহায়কদের মনেও, সঙ্গত কারণেই সংশয় ও শঙ্কা ছিল। কেননা, ‘প্রথম প্রথম এদেশের লোক বুঝিতে পারে নাই, ইংরেজরা এদেশে স্থায়ী হইয়া বসিতে পারিবে কিনা? পলাশীর যুদ্ধে তাহারা দেশ জয় করিলেন বটে, কিন্তু চারিদিকে অন্তর্বিদ্রোহ চলিল । ... বিগত শতাব্দীর (উনিশ শতক) প্রারম্ভ হইতেই এদেশীয়গণ অনুভব করিতে লাগিলেন যে, ইংরেজ রাজা স্থায়ী হইল এবং তাহাদিগকে এই নব রাজ্যের ও নূতন রাজাদিগের প্রয়োজন অনুসারে গঠিত হইতে হইবে। বাংলাদেশে উল্লিখিত কালের ইতিহাস পাঠকদের কাছে অবশ্যই বোধগম্য যে, উদ্ধৃতাংশের অন্তর্বিদ্রোহ বলতে লেখক উক্ত সময়ের বিজিত ও পর্যুদস্ত মুসলিম সম্প্রদায়ের বিদ্রোহ-প্রতিরোধকেই বুঝাতে চেয়েছেন এবং ‘এদেশীয়গণ' বলতে অপর ধর্ম-সম্প্রদায়ের সুবিধাবাদী উচ্চাভিলাষী শ্রেণীকেই বুঝিয়েছেন। 

Downloads

Download data is not yet available.

Downloads

Published

1987-06-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

বাংলা কবিতার ক্লান্তি-পর্ব : শায়ের ও কবিওয়ালা. (1987). সাহিত্য পত্রিকা, 30(3), 37-68. https://doi.org/10.62328/sp.v30i3.2