চৌরপঞ্চাশিকা
Abstract
প্রাচীন এবং মধ্যযুগে ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজা এবং রাজপ্রমুখদের দরবারে কবিগণ প্রেম ও রতির কাব্য অনুপম লাবণ্যময় সংস্কৃত ভাষায় পাঠ করতেন। শাণিত বাক্চাতুৰ্থ, উচ্ছাসের প্রবঞ্চনা, আত্যন্তিক বিনয় ও সম্ভাষণ এবং শব্দের দ্বৈতার্থ তাঁদের কাব্যের বৈশিষ্ট্য ছিল। এমনিতেই সংস্কৃত ছিল পরিশুদ্ধ এবং সুমার্জিত ভাষা—লোকমুখের অর্চনা এবং ভাষণ থেকে দূরে। তদুপরি কবিরা ছিলেন পণ্ডিত এবং রাজ-আনুকূল্যপ্রার্থী। এঁরা রাজদরবারে বিনয়নম্র বিগলিত সম্ভাষণে রাজস্তব করতেন এবং রাজাকে পরিতৃপ্ত করবার জন্য পৌরাণিক অথবা শৃঙ্গার-কাব্য রচনা করতেন। সংস্কৃত শব্দের অর্থ পরিশুদ্ধ, সুমার্জিত, সুবিবেচিত এবং সুবিন্যস্ত। একটি বিশিষ্ট নিয়ম এবং শাসনকে মান্য করে সংস্কৃতের উদ্গম এবং বিকাশ৷ অন্যপক্ষে প্রাকৃত হচ্ছে সাধারণ মানুষের অপরিমার্জিত স্বতঃস্ফুর্ত স্বভাবের ভাষা৷ চতুর্থ খৃষ্টাব্দে উত্তর ভারতে সংস্কৃত ভাষা প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলো। পাণিণির ব্যাকরণের নিয়মের বলয়ের মধ্যে থেকে সংস্কৃত ভাষা বিভিন্ন রাজ- সভার আনুকূল্য পেয়েছিলো। বৈদিক যুগে ঋষিদের অর্চনা এবং স্তুতি যে ভাষায় রচিত হয়েছিলো তা স্বাভাবিকভাবেই সুরক্ষিত থাকে নি। মূলভাষা এবং উচ্চারণ বহু যুগের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যখন লিপিকৃত হল তখন তার আদি বৈশিষ্ট্য আর বিদ্যমান ছিলোনা, তা সংস্কৃতের নিকটবর্তী হয়ে পড়ে- ছিলো। এ কারণেই ঋগ্বেদের ভাষাকে বৈদিক সংস্কৃত বলা হয়। ঋগ্বেদের উষা, নদীস্তুতি ইত্যাদি সূক্তকাব্যের দৃষ্টিতে অত্যন্ত মনোহর। ঋগ্বেদের প্রাচীনতম স্তুতিগুলি আর্যদের সপ্তসিন্ধু প্রবেশের তিনশত বছর পরে রচিত হয়। তারও পরে দুশত বছর পর্যন্ত আরও অনেক স্তুতি রচিত হতে থাকে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1987 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.