কবির প্রত্যাশা ও কালকেতুর নগর নির্মাণ
Abstract
কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর জন্ম এবং কাব্য-রচনার কালনির্ণয়-বিষয়ক তর্কবিতর্ক-কণ্টকিত আলোচনা আজ অবধি আমাদের কোন মীমাংসিত সত্যে উপনীত করতে সমর্থ হয়নি। তবে গবেষক-আলোচকবৃন্দের উপস্থাপিত তথ্য-তত্ত্ব ও টীকা-ভাষ্যে এই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত যে ষোড়শ শতকের বাংলা- দেশে মুকুন্দরাম জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ঐ শতকের শেষার্ধে হয়েছিল তাঁর সাহিত্যিক-আবির্ভাব; কেননা কবিকঙ্কণ-চণ্ডীতে বিধৃত জীবন ও সমাজে ষোড়শ শতকের বাংলাদেশই লাভ করেছে চিত্ররূপ। “শাকে রস রস বেদ শশাঙ্ক গণিত৷ / কতদিনে দিল। গীত হরের বনিতা।” কালনিৰ্দেশক এই সন্ধ্যাভাষা এবং ‘কবিত্বের বিবরণ' অধ্যায়ে বিন্যস্ত একটি চরণে ‘সুবেহ্ বঙ্গালাহ্'র সুবেদার মানসিংহের নামোল্লেখকে উপাত্ত হিসেবে গ্রহণ করেই মূলত উল্লিখিত তর্ক-বিতর্ক বিস্তার লাভ করেছে। ‘গ্রন্থ উৎপত্তির কারণ অথবা ‘কবিত্বের বিবরণ' অধ্যায়ে মানসিংহের নামযুক্ত ঐ চরণ যে অহেতুক উপস্থাপন নয়—অধিকাংশ গবেষকের আলোচনায় তা স্বীকৃত। মানসিংহ মুঘল সম্রাট আকবরের (শাসনকাল ১৫৫৬-১৬০৫) শাসনামলে ১৫৯৪ খ্রীস্টাব্দ থেকে ১৬০৬ খ্রীস্টাব্দ সময়কাল পর্যন্ত বাংলার সুবেদার-পদে নিযুক্ত ছিলেন। আকবরের মৃত্যুর অব্যবহিত পর তাঁর পুত্র সেলিম জাহাঙ্গীর নাম গ্রহণ করে পিতার উত্তরাধিকার গ্রহণ করেন (১৬০৫ খ্রী.) এবং মানসিংহ-কে পদচ্যুত ক'রে তিনি তাঁর বিশ্বস্ত ধাত্রী-পুত্র কুত্সুদ্দীন খান কোকাকে বাংলাদেশের সুবেহ্ দার পদে নিয়োগ করেন। ৩ রাজা মানসিংহের শাসনকালে সেলিমাবাজ শহরের অধিবাসী নিয়োগী (নেউগী) গোপীনাথ নন্দীর কর্তৃত্বাধীন দামিন্যা নামক তালুকে নিবাস ছিল কৃষিজীবী মুকুন্দরামের। কিন্তু ‘গৌড়-বঙ্গ-উৎকল-মহীপ' মানসিংহের শাসনকালেই ঐ-অঞ্চলের ডিহিদার নিযুক্ত হন মামুদ সরণীপ এই মামুদ সরীপের অত্যাচারে গ্রামবাসী প্রজাকুল অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1988 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.