শক্তিসাধনা ও নজরুলের কবিতা

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v32i1.4
Crossmark

Authors

Abstract

সৃষ্টির আদিযুগ থেকেই মানুষ শক্তিসাধনা করে এসেছে। প্রথম পর্যায়ে এ-সাধনা ছিলো তার টিকে থাকার প্রয়োজন থেকে উদ্ভূত। বিবর্তিত পথ-পরিকমায় এর কুমরূপান্তর সাধিত হয়—নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের প্রয়াস থেকে কুমে আত্মবিস্তারের বাসনা প্রাধান্য পায় এবং সে-উদ্দেশ্যেই ব্যবহাত হতে থাকে শক্তি-উৎস ও হাতিয়ারসমূহ। প্রত্যাশার বাস্তবায়নে মানুষ স্বীয় শক্তিকে ব্যবহার করেছে নানাবিধ উপায়ে। প্রয়োগ এবং অপপ্রয়োগ—উভয়বিধ উপায়ে শক্তি প্রয়োগের ফল কখনো শুভ হয়েছে, মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে, আবার কখনো তার অশুভ থাবা গ্রাস করেছে মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বনটুকুও। অবশ্য কালক্রমে এই শক্তিপ্রয়োগ আর বাহুবলে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বুদ্ধির কর্ষণ আর সভ্যতার কুমোত্তরণের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শক্তি প্রয়োগের পদ্ধতি হয়েছে ভিন্ন থেকে ভিন্নতর, হয়েছে জটিল থেকে জটিলতর। আদিম সামন্তসমাজ থেকে বুর্জোয়া সামাজে রূপান্তর এবং বর্তমান বিশ্বের সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা—যা সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থায় উত্তরণের ধারায় অগ্রসরমান –সেখানেও পরম্পরাগতভাবে শক্তিপ্রয়োগের অনিবার্য তাগিদ লক্ষণীয়। স্বাভাবিক সামাজিক সংঘাতের বাইরেও যে পেশীশক্তির প্রয়োগ—এই বিবর্তনের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা বিশাল। প্রশ্ন উঠতে পারে, শক্তিসাধনা কিংবা শক্তিপ্রয়োগ কি এক কথা ? হিন্দু ধর্মের দেবদেবী কিংবা অসুরদের সঙ্গে স্বর্গে-মর্তে যে-যুদ্ধ, সেখানে শক্তিপ্রয়োগের পূর্বে শক্তিসাধনা তো একটি স্বাভাবিক ধর্মীয় সংস্কারেরই অন্তর্ভুক্ত। রামায়ণ, মহাভারত থেকে শুরু ক'রে ধর্মীয় যে কোনো উপাখ্যানের মধ্যেই দেব-দেবী বা ঈশ্বরবন্দনার মধ্য দিয়ে মূলত শক্তিরই সাধনা করা হয়েছে। অতএব শক্তিসাধনা হচ্ছে মানুষের মৌলিক প্রবণতারই বহিঃপ্রকাশ। সাহিত্যেও এই সাধনা বহু প্রাচীন। 

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.

Published

1988-10-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

শক্তিসাধনা ও নজরুলের কবিতা. (1988). সাহিত্য পত্রিকা, 32(1), 97-107. https://doi.org/10.62328/sp.v32i1.4

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%