রবীন্দ্রনাথের কাব্যপাঠ
Abstract
'সঞ্চয়িতা' সংকলন গ্রন্থের সূত্রপাত হয়েছে “ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী'র দু'টি কবিতা দিয়ে--একটির নাম 'মরণ' এবং অন্যটির নাম ‘প্রশ্ন’। ১৮৮৪ সালের আশ্বিন সংখ্যা থেকে 'ভারতী' পত্রিকায় ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' ছাপা হতে থাকে। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, “একদিন মধ্যাহ্নে খুব মেঘ করিয়াছে। সেই মেঘলা দিনের ছায়াঘন আনন্দে বাড়ির ভিতরে এক ঘরে খাটের উপর উপুড় হইয়া পড়িয়া একটা শ্লেট লইয়া লিখিলাম—‘গহন কুসুমকুঞ্জ মাঝে' লিখিয়া ভারি খুশী হইলাম।” রবীন্দ্রনাথের উক্তিতে দেখা যাচ্ছে যে, স্বরচিত এই চরণটির ধ্বনি তাঁকে মুগ্ধ করেছিল এবং এটা লিখে নিজের উপর তাঁর বিশ্বাস জন্মেছিল। এই বিশ্বাস জন্মেছিল বলেই ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' সৃষ্টি করা তাঁর পক্ষে সম্ভবপর হয়েছিল। বৈষ্ণব পদাবলীর অনুকরণে কবিতারচনার প্রেরণা রবীন্দ্রনাথ পেয়েছিলেন শৈশব থেকে। এ-কাব্যধারার প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল বাল্যকাল থেকেই। একটি পত্রে এই অনুরাগ সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, “আমার বয়স যখন তেরো-চৌদ্দ তখন থেকে আমি অত্যন্ত আনন্দ ও আগ্রহের সঙ্গে বৈষ্ণব পদাবলী পাঠ করেছি; তার ছন্দ রস ভাষা ভাব সমস্তই আমাকে মুগ্ধ করতো। যদিও আমার বয়স অল্প ছিল তবু অস্ফুট রকমেও বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্বের মধ্যে আমি প্রবেশ লাভ করেছিলাম।” যে-বয়সে তিনি বৈষ্ণব কাব্যকে আনন্দিত চিত্তে গ্রহণ করেছিলেন সে বয়সটি কোনও তত্ত্বকে গ্রহণ করবার বয়স নয়। তাহলে আমি বলতে পারি যে, রবীন্দ্রনাথ বৈষ্ণব কবিতার ছন্দে মুগ্ধ হয়েছিলেন, শব্দগত অনুপ্রাসে মুগ্ধ হয়েছিলেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1988 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.