কবি ডিরোজিও
Abstract
একজন সমাজবিপ্লবী বা নবযুগের স্রষ্টা ও উদ্গাতা যদি কবি বা শিল্পী হন তবে সামাজিক আলোড়ন ও কর্মচাঞ্চল্যের অন্তরালে তাঁর কাব্য-প্রতিভা ও শৈল্পিক উৎকর্ষ গৌণ হয়ে পড়ে। রুশো, ভলটেয়র এমনকি লেনিন-মাও সেতুং-এর মতো সমাজ বিপ্লবীদেরও কাব্য প্রতিভা কম ছিলোনা কিন্তু তাঁদের কর্মকাণ্ডের উষ্ণতার 'অন্তরালে আবৃত কাব্য প্রতিভার খোঁজ আমরা ক'জনে রাখি। ইয়ং বেঙ্গলদের গুরু-নব্য বাংলার মহান স্থপতি, উনিশ শতকের নব জাগরণের তুর্যবাদক এবং বাংলার সক্রেটিস ও হিন্দু কলেজের শিক্ষক ডিরোজিওকে আমরা যতোটুকু জানি—এ পরিমাণে কবি ডিরোজিওকে জানিনে বললেই হয়। অথচ ডিরোজিও এদেশে একজন প্রথম সমাজ সচেতন কবি, জাতীয়তাবাদী কবি ও মানবতাবাদী কবি। যতোই দিন যাচ্ছে ডিরোজিওর কাব্যকলার নবমূল্যায়ন হচ্ছে এবং তাঁর কাব্য প্রতিভার মানবিক মহিমার ঔজ্জ্বল্যে আমরা বিমুগ্ধ হচ্ছি। ডিরোজিওর কাব্য প্রতিভার ঔজ্জ্বল্যকে এতোদিন আমরা ছায়াপথের রেখার মতোই দেখে আসছি, এবার আমরা তাঁর শিল্পীসত্তার স্বরূপ উন্মোচন করে দেখতে পাবো যে, তাঁর কাব্য-প্রতিভা সৌরলোকের মতোই উজ্জ্বল ও ভাস্বর। ডিরোজিওর কাব্য প্রতিভা আমাদের কাছে উপেক্ষিত থাকার কারণ বোধ হয় এতোদিন ধরে আমরা তাঁকে শুধু ইয়ংবেঙ্গলদের গুরু হিসেবেই জেনেছি, এছাড়া ডিরোজিও নিজেও কবিতাকে প্রচার বা বিলাসের 'অনুষঙ্গী করে তুলেননি। অপরক্ষেত্রে মানবাত্মার অপমান ও পরাধীনতার গ্লানি তাঁর চিত্তকে যেভাবে দগ্ধ করেছিলো—সেখানে শিল্পের আপেক্ষিকতা ছিলো গৌণ।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1989 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.