সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্-র চাঁদের অমাবস্যা
Abstract
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ একদা কাজি আফসারউদ্দিন আহমদকে এক পত্রে জানিয়ে - ছিলেন “আমার দুয়েকটা গল্প দার্শনিক হলেও, আমি দার্শনিক নই”। এভাবে তিনি নিজের সৃজনভুবনে দার্শনিক চিন্তার উদ্ভাস স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া ফরাসী সাহিত্যে তাঁর আগ্রহ এবং নিষ্ঠ। আজ আর পাঠকের অবিদিত নেই। এ থেকে অনুমান করা যায় যে সমকালীন পাশ্চাত্য দর্শনও তাঁকে প্রভাবিত করেছিল নিঃসন্দেহে। তাঁর রচনায় ফরাসী সাহিত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, পরিমিতি জ্ঞান, বিশেষভাবে লক্ষ্যযোগ্য। জীবন সম্পর্কে তাঁর স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গী সাক্ষ্য দেয় যে সচেতনভাবে না হলেও তাঁর অলক্ষেই হয়ত সমকালের ফরাসী দর্শনচিন্তা শেষ দুটি উপন্যাসের অস্থি-সংস্থানে ছায়াপাত করে গেছে। এখানে মনে রাখা দরকার যে একসময় স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও ফরাসী চিন্তাবিদ বার্গস-র গতিবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। তবে তত্ত্বদর্শন কখনোই সরাসরি যুক্তি তর্ক নিয়ে সাহিত্যে উপস্থিত হয়না। সাহিত্যে তত্ত্বীয় দর্শনের পরিবেশনা হয় ভিন্ন আধারে ভিন্ন- রকমভাবে। তাই বার্গস-র গতিবাদ রবীন্দ্র-মানসের বিশিষ্টতায় জারিত হয়ে ভিন্ন আকৃতি নিয়েছিল। সেভাবে স্বসময়ের আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি প্রাগ্রসর দর্শনচিন্তা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে কিভাবে কতটুকু অধিকার করে নিয়েছিল আজ ত৷ সমালোচকের অনুসন্ধানের বিষয় । পাশ্চাত্যের ক্যমু-সার্ত্রে-বেকেটর মত দৰ্শনতত্ত্ব কখনোই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ র উপন্যাসে সরাসরি বিষয় হিসেবে আসেনি সত্য, কিন্তু আধুনিক পাঠক মাত্রই জানেন যে বাহ্যত তাঁর রচনাপরিমণ্ডল সর্বার্থেই রক্ষণশীলতা- মুক্ত, অতি উদার। বিশেষ করে তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'চাঁদের অমাবস্যার শিল্প-উপাদান অন্তর্গত চৈতন্যে ব্যাপকপ্রসারী।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1989 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.