বাংলা গদ্য ও হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
Abstract
প্রায় একশ ছয় বছর আগে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩-১৯৩১) বাংলা গদ্যের তিনটি রূপের কথা বলেছিলেন, আমাদের দেশে সেকালে ভদ্রসমাজে তিন প্রকার বাংলা ভাষা চলিত ছিল। মুসমান নবাব ও ওমরাহদিগের সহিত যে-সকল ভদ্রলোকের ব্যবহার করিতে হইত, তাঁহাদের বাংলায় অনেক উর্দু শব্দ মিশানো থাকিত। যাঁহারা শাস্ত্রাদি অধ্যয়ন করিতেন, তাঁহাদের ভাষায় অনেক সংস্কৃত শব্দ ব্যবহৃত হইত। এই দুই ক্ষুদ্র সম্প্রদায় ভিন্ন বহু সংখ্যক বিষয়ী লোক ছিলেন। তাঁহাদের বাংলায় উর্দু ও সংস্কৃত দুই মিশানো থাকিত । কবি ও পাঁচালিওয়ালার এই ভাষায় গীত বাঁধিত। মোটামুটি ব্রাহ্মণ পণ্ডিত, বিষয়ীলোক ও আদালতের লোক এই তিন দল লোকের তিন রকম বাংলা ছিল। বিষয়ী লোকের যে বাংলা 'তাহাই পত্রাদিতে লিখিত হইত, এবং নিম্নশ্রেণীর লোকেরা ঐরূপ বাংলা শিখিলেই যথেষ্ট মনে করিত। সহজাত অভিজ্ঞতা থেকে হরপ্রসাদ এই উক্তি করেছিলেন। পরবর্তীকালে বাংলা ভাষার আলোচনা এবং অন্যান্য প্রসঙ্গেও এই তিন রকমের ভাষার কথা তিনি একাধিকবার উল্লেখ করেছেন। তবে কোন প্রসঙ্গেই তিনি এই তিন রকমের ভাষার কোন উদাহরণ দেন নি। আমরা জানি, বাংল। ভাষা, বাংলা ব্যাকরণ ইত্যাদি নিয়ে তিনি বিশেষ চিন্তা-ভাবনা করেছিলেন। “মুসলমানী বাংলা”, “নূতন কথা গড়া” ইত্যাদি বিষয়েও তাঁর ভিন্নরকম প্রস্তাব ছিল। পরিভাষা নির্মাণে শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধি বা রুচিকে তিনি প্রশ্রয় দেন নি। সামগ্রিকভাবে তাঁর রচনারীতি, ভাষাভঙ্গি ও ভাষা-আদর্শ বিচারের পূর্বে বাংলা গদ্যের ইতিহাস সংক্ষেপে আলোচনা করা প্রয়োজন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1989 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.