নাট্যতত্ত্বের দৃষ্টিতে বেণীসংহার নাটকের নায়ক
Abstract
নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে বেণীসংহার একখানা উল্লেখযোগ্য নাটক। ভট্টনারায়ণ এর রচয়িতা। বেণীসংহার নাটকের ইতিরত্ত গড়ে উঠেছে মুখ্যতঃ মহাভারত বর্ণিত কাহিনীর উপর ভিত্তি করে। যুধিষ্ঠির দূত-ক্রীড়ায় হেরে যাওয়ার পর দুর্যোধনের আদেশে দুঃশাসন প্রকাশ্য রাজ সভায় দ্রৌপদীর কেশাকর্ষণ করেছিলেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভীম প্রতিজ্ঞা করেছিলেন দুর্যোধনের ঊরু ভঙ্গ করে ঐ রক্তে রঞ্জিত হস্তে তিনি দ্রৌপদীর কেশ সংহার (বন্ধন) করবেন। যুদ্ধে দুর্যোধনসহ কৌরবপক্ষের সকল বীরই নিহত হয়েছিলেন। যুদ্ধ শেষে ভীম দুর্যোধনের রুধিরসিক্ত হাত দিয়ে দ্রৌপদীর বহুদিনের মুক্তকেশ স্বহস্তে বেঁধেছিলেন। এই হচ্ছে নাটকের বিষয়বস্তু। এখানে বেণীসংহার নাটকের নায়ককে -এটাই আলোচ্য বিষয় ৷ নায়ক শব্দটি প্রচলিত অর্থে প্রধান বাচী। অলংকার বা নাট্যতত্ত্বের গ্রন্থে শব্দটি কাব্য বা নাটকের প্রধান চরিত্রকে বোঝায়। অভিনবগুপ্ত নাট্যশাস্ত্রের যে নায়কা নিগদিতাস্তেষাং (নাট্য শাস্ত্ৰ ১৮/১৭) এবং তার পরবর্তী শ্লোকের ব্যাখ্যায় নায়ক শব্দটিকে ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ধরে (নয়তি প্রাপ্নোতীতি বৃত্তং ফলং বা) নায়ক, তার সহকারী শত্রু, এক কথায় সমস্ত প্রধান চরিত্রকে বুঝিয়েছেন। ১ সাগরনন্দীও উক্ত শ্লোকটির অনুরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। সাধারণতঃ দেখা যায় যে, নায়ক শব্দের বহুবচনান্ত রূপটি (নায়কাঃ) সংস্কৃত নাট্যতত্ত্বের গ্রন্থে রূপকের সবগুলি প্রধান চরিত্র বোঝাতে প্রযুক্ত হয়৷ যেমন উল্লিখিত ক্ষেত্রে হয়েছে। একবচনান্তে (নায়কঃ) শব্দটি কেবলমাত্র প্রধান চরিত্রকেই বোঝায়। নাট্যশাস্ত্রে নায়ক অর্থে নেতা শব্দের প্রয়োগও আছে৷
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1990 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.