শ্রী চৈতন্যদেবের পূর্ববঙ্গ সফর
Abstract
চৈতন্যদেবের পূর্ববঙ্গ সফর সম্পর্কে বিস্তৃত করে তিনি অর্থ ও সম্মান লাভ বিদ্যাগর্বে গর্বিত দাম্ভিক নিমাই বড় বড় জীবনী গ্রন্থে বর্ণনা নেই। তবে পূর্ববঙ্গ সফর করেছিলেন এ তথ্য পাওয়া যায়। ব্যাকরণের ফাঁকি জিজ্ঞেস করে নবদ্বীপের পণ্ডিতসমাজকে উত্যক্ত করতেন। বৈষ্ণবরা তাঁকে আসতে দেখে পালিয়ে যেতেন। তখন তিনি নবদ্বীপের নিমাই পণ্ডিত ছিলেন, চৈতন্যদেব হননি। পণ্ডিতসমাজ এবং বৈষ্ণবগণ তাঁকে ভয় করতেন ঠিকই, কিন্তু আন্তরিকভাবে হয়ত সম্মান করতে পারেননি। বায়ুরোগের পর তিনি কিছুটা শান্ত হন। সুস্থ হয়ে আনুমানিক ১৫০১-০২ খ্রীস্টাব্দের দিকে ১৫১/৬ বছর বয়সে বল্লভ আচার্যের কন্যা লক্ষ্মী দেবীকে বিবাহ করেন। পূর্ব বঙ্গের প্রাচীন শ্রীহট্ট তাঁর পিতা-মাতা, শ্বশুর-শাশুড়ী এমন কি আত্মীয়স্বজন প্রায় সকলেরই জন্মস্থান। তিনি পূর্ববঙ্গ সফর করেন—এটা ঐতিহাসিক সত্য হলেও বিস্তৃত বর্ণনা না পাওয়ার অন্য অনেক কারণ থাকতে পারে ৷ প্রথমত তাঁর পূর্ববঙ্গ সফর-সঙ্গীদের কেউ জীবনী লিখেননি, দ্বিতীয়ত নবদ্বীপ বা পশ্চিমবঙ্গের জীবনী লেখকগণ হয়ত অভিমানে শ্রীহট্টের কথা লিখেননি অথবা বিস্তৃত তথ্য তাঁদের জানা ছিল না। অথচ তাঁর পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতি প্রথমে পূর্ববঙ্গ থেকেই আসে, আর্থিক স্বচ্ছলতাও লাভ করেন। পূর্ব বঙ্গের তপনমিত্র তাঁর প্রথম শিষ্য, যিনি পরে কাশীতে অবস্থান করেন। প্রকৃতপক্ষে পূর্ববঙ্গে পাওয়া সম্মান ও প্রতিপত্তিই পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের অন্যান্য স্থানে তাঁর প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে। অধুনালুপ্ত কিছু প্রাচীন গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত তথ্য-যা কিছু দুর্লভ প্রাচীন গ্রন্থে পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতে নিমাই পণ্ডিতের পূর্ববঙ্গ সফরের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেশ করা যায়।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1990 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.