সুধীন্দ্রনাথের কবিতায় মিথ : ব্যক্তিস্বরূপে ও শব্দানুষঙ্গে
Abstract
বিশেষ একটি নান্দনিক দৃষ্টিকোণ থেকেই উদ্ভূত হয়েছে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের নাস্তি-অহং-সোহংবাদী পরিক্রমণশীল ব্যক্তিস্বরূপ, আর তারই কংক্রিট-শরীর হিসেবে শব্দানুষঙ্গ, প্রচল মতের কলাকৈবল্যবাদ কিংবা ব্যক্তিবাদ—দুইকে তিনি অগ্রাহ্য করেন শিল্পগত অবস্থানের সার্বভৌমত্বে – অনেকটা রবীন্দ্রনাথের মতোই উচ্চারণ করেন, “মানুষ ও তার পরিমণ্ডলের মধ্যে সামঞ্জস্য আনে বলেই, আর্ট জীবনে এত অবর্জনীয় এবং সামাজিক প্রতিকূলতায় আর্ট অসম্ভব বটে। কিন্তু পরিণামে প্রতি বেশকে ছাড়িয়ে উঠতে না পারলে, তা নিরতিশয় ব্যর্থ।” তাঁর ভাবনায় সাহিত্যচিন্তা জীবনজিজ্ঞাসার অন্যতম গূঢ় জটিল প্রশ্ন হিসেবেই ধৃত হয়েছে। এর পেছনে রয়েছ তাঁর ক্লাসিক-চেতন আত্মানুভূতি ও অভিজ্ঞতা এবং তার সঙ্গে বিজড়িত বিবেকবোধ। অনিবার্যত তিনি নির্ধারণ করেন শিল্পীর জন্যে একটি অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্যরূপে সেই নিয়মবদ্ধতা-দিনানু-দৈনিক খণ্ড অভিজ্ঞতাগুলো যেখানে সার্থক ও সুগ্রথিত হতে পারে।” এবং ‘তা সম্ভব চৈতন্য, বিশুদ্ধ চৈতন্য আর সংকল্প, নিরহংকার সংকল্প'—এই দুটি দুর্লভ গুণকে আয়ত্ত করে। এক অর্থে, বিশ শতকের দ্বিতীয়-তৃতীয়-চতুর্থ দশকের প্রতিবেশ, বাস্তবতার অন্তঃচাপ থেকেই এই কবি বৈশ্বিক পটভূমির সঙ্গে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির সম্পর্কসূত্র সন্ধান করেন, নান্দনিক বিধিমালায় ব্যাপৃত থাকেন এবং উপনীত হতে চান ‘আমিত্বের’ কেন্দ্রে ; ‘এই আমি’ যতোটা অহংসুলভ, তারও অধিক চৈতন্যসম্ভূত—সদাজাগ্রত আত্মসচেতনতার চূড়ান্তরূপ। যেহেতু পরিপার্শ্ব ও মানুষের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের মৌলিক শর্তটি সেখানে রয়েছে সংগুপ্ত, সে কারণে সুধীন্দ্রনাথ অবলম্বন করেন ব্যক্তিস্বরূপের একটি কেন্দ্রাভিগ-প্রত্যয়। এবং বাস্তবের নিদারুণ বিশৃঙ্খলা-নাস্তি সত্ত্বেও তা-ই হয়ে ওঠে তাঁর কবিতার বিষয়, দুর্মর হয়ে ওঠে রূপের প্রাণশরীরকে পাবার তৃষ্ণা, যা শেষাবধি শব্দানুষঙ্গের মাত্রায় স্থিতপ্রাজ্ঞ হয়।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1990 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.