মুক্তিযুদ্ধের কবিতা
Abstract
একুশের মতো মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও কবিতা লেখা হয়েছে বেশী। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষের মধ্যে যে জাতীয়তাবাদী চেতনা, স্বদেশপ্রেম এবং মানবতাবাদী আবেগের স্ফুরণ ঘটেছিল, তা প্রকাশ করার জন্যে হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে কবিতার আঙ্গিকই উপযুক্ত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পরে ‘হে স্বদেশ’ (১৩৭৮) এবং 'উত্তরণে অমরত্ব' (১৯৭২) নামক দুটি কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয়, দুটি সংকলনেই মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক কবিতার প্রাধান্য ছিল। ঐ দুটি সংকলনের বার বছর পরে বের হয় 'মুক্তিযুদ্ধের কবিতা' (১৯৮৪) এবং পনের বছর পরে 'মুক্তিযুদ্ধের নির্বাচিত কবিতা' (১৯৮৭) নামে আরো দুটি সংকলন। এই চারটি সংকলনে যদিও বেশ কিছু কবিতার পুনরাবৃত্তি আছে তবুও সব মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের কবিতা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। ঐ সব সংকলনে যাদের কবিতা স্থান পেয়েছে তার মধ্যে কবি জসীমউদ্দীন এবং বেগম সুফিয়া কামালও রয়েছেন, এ আলোচনা তাদের কবিতা দিয়েই শুরু করছি। ‘মুক্তিযুদ্ধের কবিতা' (আবুল হাসনাত সম্পাদিত) সংকলনে জসীমউদ্দীনের দুটি কবিতা আছে— 'দগ্ধগ্রাম' ও 'মুক্তিযোদ্ধা’। প্রথম কবিতাটি ১৯৭১ সালের ২রা মে অর্থাৎ পাকিস্তানীদের ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর পরই লিখিত। এ কবিতায় তিনি তার চিরাচরিত সহজ সরল ভাষায় পাকিস্তানীদের বর্বরতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তারও আগে ১৯৭১ এর ২৯শে এপ্রিল 'খবর' কবিতায় তিনি লিখেছিলেন 'মায়া মরিয়াছে দয়া মরিয়াছে, মরিয়াছে মানবতা।' আর 'দগ্ধগ্রাম' কবিতায় মানবতার ঘাতকদের পরিচয় দিয়েছেন—
কিসে কি হইল, পশ্চিম হতে নর-ঘাতকেরা আসি
সারা গাঁও ভরি-আগুন জ্বালায়ে হাসিল অট্টহাসি ।
মার কোল হতে শিশুরে কাড়িয়া কাটিল যে খান খান,
পিতার সামনে মেয়েরে কাটিয়া করিল রক্ত-স্নান।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1991 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.