পল্লীকবি জসীমউদ্দীন ও তাঁর দুটি কবিতা : কবর ও পল্লীজননী
Abstract
বঙ্কিমচন্দ্র আমাদের সাহিত্যে যে আদর্শবাদ বা Idealism-এর অনুশীলনী করে চমৎকৃত করেছেন, সে-গোড়া সমাজের রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে শরৎচন্দ্র একটু অতিমাত্রায় বিদ্রোহের সুরেই বাস্তববাদ বা Realism- এর পরশ লাগিয়ে আমাদের উচ্চকিত করে তুললেন। আর রবীন্দ্রনাথ এ আইডিয়ালিজম ও রিয়ালিজমের সমন্বয় সাধন করে দুই অতি-প্রান্তিক ধারার সম্মেলন সাধন করে একমুঠো পথের ধুলো নিয়ে বললেন: সোনা হও। আর অমনি সোনা হয়ে গেল। যে কারণটির জন্য বঙ্কিম হয়ে রইলেন অত্যন্ত দূরের মানুষ, আর শরৎচন্দ্র কাছের হয়েও একেবারে আটপৌরে বলে কেমন যেন ‘কাছে থেকে দূর তবু সে মধুর' এমনি আমেজে নিতান্ত পর পর ভাবের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেই আমাদের সংগে সম্পর্ক স্থাপন করলেন। এমন অবস্থায় দূরের সুরের মায়ায় আচ্ছন্ন করে আইডিয়ালের ভাব-প্রবণতার উচ্ছ্বাসের সংগে রিয়েলের সাদামাটা গদ্য জীবনের প্রাণে রোমান্টিসিজমের প্রলেপ দিয়ে অতি-নবায়ন করলেন। ভাবপ্রবণ বাঙালীর আদর্শবাদ ও বাস্তববাদ রবীন্দ্র-পরিচর্যায় বৃন্দাবনের বিনোদিনী রাধা কম্প্র বক্ষে নম্র নেত্রপাতে, প্রিয় সন্ধ্যা বেলায় যবে তুলসী তলায় আমাদের গৃহাংগনে আধো আলো আধো ছায়াতে রোমান্স সৃষ্টি করে, যাদুকরী মোহে আচ্ছন্ন করে, মুগ্ধ করে। একক সেই রবি-করোজ্জ্বল আকাশের প্রখর রৌদ্রালোকে যখন বাংলা কাব্যের দিক উদ্ভাসিত ঠিক তখনই আকাশের এক কোণে এক ঝলক বিদ্যুৎ চমকে গেল, চিলিক মেরে সবার চোখে ধাঁ ধাঁ লাগিয়ে জানান দিয়ে বলে গেল: এই যে, এদিকে আমিও আছি। সব ছেড়ে নিজের দিকে দৃষ্টি কেড়ে নিল সবার। সবাই অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখলঃ রবি করের উজ্জ্বল তেজ তো নিষ্প্রভ নয়, অথচ এমন আচম্বিত চোখ ঝলসানো যাদুকরী চমকটি কোথেকে কী ভাবে এসে সবাইকে সবার অজান্তে একেবারে স্তম্ভিত হতবাক করে দিল।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1991 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.