রবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞান-মানস
Abstract
রবীন্দ্রনাথ সবার কবি। সবাই তাই বলে। তাঁর লেখা পড়ে সবারই মনে হতে পারে-‘এ কথাত আমিই বলতে চেয়েছিলাম, এত আমারই কথা।' তাই যদি হয় তবে একজন বিজ্ঞানী যার ধ্যান আর জ্ঞান প্রকৃতি ও পরিবেশকে নিয়ে তিনি কেন খুঁজে পাবেন না তার কথা, রবীন্দ্রনাথের কথার মাঝে। এ প্রত্যাশা ত অত্যন্ত সঙ্গত। সঙ্গত এ কারণে যে মূলতঃ কবি ও বিজ্ঞানী উভয়েরই আনন্দ প্রকৃতি-পাঠে। তবে এই পাঠের পদ্ধতি দু'জনের দু’রকমের। একজনের প্রকৃতি-পরিচয় হয় পাখীর গানে, মৌমাছির গুঞ্জনে, নদীর কলতানে, সবুজের সমারোহে। অন্যজন প্রকৃতির মাঝে খুঁজে পেতে চান বিচিত্র বিধান আর সৃষ্টির চাতুর্য। কবি প্রকৃতির বৈচিত্র্য আর সৌন্দর্যের সম্ভার দেখে মুগ্ধ হন-বিজ্ঞানী প্রকৃতির মধ্যে খুঁজে পান কার্যকারণ সম্বন্ধ। এই শেষোক্ত কাজটি গদ্যময় মনে হতে পারে কিন্তু এ গদ্যই শেষ কথা নয়। এ গদ্য পেরিয়ে বিজ্ঞানী শেষ পর্যন্ত আবিষ্কার করেন এক নতুন ছন্দ ও তাল, যখন তিনি দেখতে পান যে আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কবিহীন ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সুন্দর সমন্বয়, প্রকৃতির প্রতিসাম্যের মাঝে রয়েছে একটি পরিপূর্ণ পরিকল্পনা। আর তখন তিনি জীব ও জড়ের শাসনে প্রকৃতির যে নিঃশব্দ নিয়মাবলী কাজ করে- তার মধ্যে খুঁজে পান এক অপূর্ব ঐকতান-শুনতে পান একটি একতার সুর। এই সুরেই একসাথে বাঁধা পড়ে কবি আর বিজ্ঞানীর মন। এই সুরের মূর্ছনায় সৃষ্টি আর স্রষ্টার মহিমায়, উভয়ের মাথাই নত হয়ে আসে। ঠিক একই কারণে যে বিজ্ঞানীই রবীন্দ্রনাথের লেখা পড়বেন তিনি কোন-না-কোন সমতলে এসে রবীন্দ্রনাথের সাথে একাত্মতাবোধ করবেন- তাতে কোনই সন্দেহ নেই। রবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞান-মানস তাকে মুগ্ধ করবেই। শুধু যে প্রকৃতির লীলা খেলা অনুধাবনের মাঝেই এই বিজ্ঞান-মানস প্রচ্ছন্নভাবে ধরা পড়ে তা নয়-কখনও কখনও এর প্রকাশ ঘটেছে একেবারে প্রত্যক্ষভাবে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1991 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.