বিষ্ণু দে-র কবিতায় শব্দব্যবহার
Abstract
বিষ্ণু দে-র ভাষা আলোচনায় প্রথমেই আসে তাঁর শব্দব্যবহারের সফলতার কথা। ভাষার শরীর নির্মাণের প্রধান উপাদান শব্দ। সে শব্দকে বিষ্ণু দে নাড়াচাড়া করেছেন ম্যাজিশিয়ানের মতো। ম্যাজিশিয়ানের হাতের বল যেমন সুনিয়ন্ত্রিত চালে একটি বৃত্ত নির্মাণ করে, বিষ্ণুদে-ও সুনিয়ন্ত্রিত চালে ঠিক তেমনিভাবে শব্দ নিয়ে খেলেছেন৷ সেজন্য তাকে আধুনিক বাংলা কবিতার শব্দ-ম্যাজিশিয়ান হিসেবে উল্লেখ করা যায়। তিনি ম্যাজিশিয়ানের মতো খেলা দেখিয়েছেন তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি বা লোকজ, বিদেশি, অপ্রচলিত, সঙ্গীতবিষয়ক, অন্ত্যজ শ্রেণীবিষয়ক, রাজনীতিঘেষা শব্দ নিয়ে। তবে বিষ্ণুদে-র ভাষা আলোচনা প্রসঙ্গে তাঁর লেখা ‘মালার্মে: প্রগতি’ কবিতাটি মনে রাখতে হবে। কবিতাটির কিছু অংশ মালার্মে। তোমারই মতো আমাদেরও নিষ্ঠুর বর্বর পরবশ ধূর্ত স্মার্ট বিলাসের বিচ্ছিন্ন বিরাট জীর্ণশীর্ণ ভূখণ্ডের অতিভোজী অতিভাষী আর্ট অবসন্ন করে অপশিল্পকর্মে অকর্মে জর্জর;
তাই পরিব্রজে খোঁজা অপভ্রংশে, দেশজ ভাষায়,
আঞ্চলিক মুখে মুখে স্থানীয়ের বিশিষ্ট বাচনে,
কথ্যছন্দে, সুরময় প্রাত্যহিক প্রাকৃত ভাষণে
শিল্পের বিশুদ্ধ অর্থ অপ্রাকৃত মধুর-কষায় .....
(বছর পঁচিশ, পৃ.২৪৩ )
বিষ্ণু দে শিল্পের বিশুদ্ধ অর্থ দেশজ ভাষায় বা আঞ্চলিক মুখে মুখে কিংবা স্থানীয়ের বিশিষ্ট বাচনে অন্বেষণ করেছেন। তবুও তাঁর কবিতায় তৎসম শব্দের ব্যবহার আমরা লক্ষ্য করি।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1991 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.