বেণীসংহার নাটকের রস-বিচার
Abstract
ভারতীয় সাহিত্যমীমাংসায় রসকেই কাব্যের সার বলা হয়েছে। কাব্য শ্ৰব্যই হোক আর দৃশ্যই হোক, দর্শক-পাঠককে তার অনেক কিছু দেবার থাকলেও রসাস্বাদ-জনিত পরম আনন্দইতার মূল দেয়। ভারতীয়-নন্দনতত্ত্বে দৃশ্যকাব্য অর্থাৎ নাটক-প্রকরণাদি অবলম্বন করেই এই রসবাদের উদ্ভব, ভরতমুনি যার আদি প্রবক্তা এবং তাঁর নাট্যশাস্ত্র যার মূল গ্রন্থ। ভরত নামে কোন ব্যক্তি-বিশেষ ছিলেন কিনা তা বলা যায় না। তাঁর নামে যে গ্রন্থখানি প্রচলিত, সেই নাট্যশাস্ত্র যে অধুনালভ্য ভারতীয় কাব্য-বিচারসম্পর্কিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে প্রাচীনতম, তাতে কোন দ্বিমত নেই। নাট্যক সম্পর্কে লেখক, পরিচালক এবং দর্শক-শ্রোতা, সবার দৃষ্টিকোণ থেকে পূর্ণাঙ্গ আলোচনাত্মক নাট্যশাস্ত্র-র মত গ্রন্থ পৃথিবীর আর কোন ভাষায় আজ পর্যন্ত লেখা হয়েছে বলে জানা যায়নি। এই নাট্যশাস্ত্রে সর্বপ্রকার কাব্যের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে-রসহীন রচনা নিরর্থক, আর বস্তু বা ইতিবৃত্ত হল কাব্যের বা নাট্যের শরীর । অভিনব গুপ্ত দ্বিতীয় বাক্যটির ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ইতিবৃত্ত অর্থাৎ রূপকের বস্তু হল শরীর এবং রস আত্মা। নাট্যশাস্ত্রর ষষ্ঠ অধ্যায়ে উল্লিখিত বাক্যটির পরই রসের স্বরূপ সম্পর্কে বলা হয়েছে বিভাবানুভাবব্যভিচারিসংযোগাদ্ রসনিষ্পত্তিঃ অর্থাৎ বিভাব, অনুভাব ও ব্যভিচারী ভাবের সংযোগে রসনিস্পত্তি হয়। বাক্যটি ছোট, কিন্তু এর ব্যাখ্যা নিয়ে প্রাচীন ও আধুনিক কালে বিভিন্ন ভাষায় এত গ্রন্থ ও প্রবন্ধ লেখা হয়েছে যে তাকে একটা স্বতন্ত্র সাহিত্যের মর্যাদাই দেওয়া যায়।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1991 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.