মধ্যযুগের বাংলা গীতিকবিতা বৈশিষ্ট্য ও ধারা—সমীক্ষা
Abstract
সাহিত্যের বিভিন্ন ধারায় মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে আধুনিক যুগের সঙ্গে মধ্যযুগের যে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়, গীতিকবিতার ধারায়ও অনেকখানি সেই পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। আধুনিকতার মাপকাঠিতে এবং সমকালীন যুগ পরিবেশের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যযুগের গীতিকবিতার মূল্য নিরূপণ খুব সহজ নয়। মধ্যযুগের সার্বিক পটভূমিকা আলোচনায় আমরা দেখতে পাই, সমাজ একদিকে দেবতা ও ধর্ম নির্ভরশীল, অপরদিকে দ্বিতীয় দেবতা স্বরূপ সামন্তরাজ শাসকশ্রেণী সমস্ত দেশবাসীকে নির্যাতনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করেছে। সাধারণ জনসমাজ প্রজারূপে রাজন্যবর্গের আদেশবাহী ভৃত্য। দেবতা ও শাসকগোষ্ঠীর হৃব--স্তুতির দ্বারা তৎকালীন সাহিত্যকর্মের সূচনা। মানুষের জীবন সেখানে সমাজবদ্ধ, সে সমাজ বিভিন্ন ধর্মের আচারে সীমায়িত। এই সীমাকে কোনপ্রকারে লঙ্ঘন করলেই মানুষ যেমন সমাজচ্যুত হয়েছে, তেমনি কাব্যরচনার ক্ষেত্রেও সে গোষ্ঠীর মনোরঞ্জন অধিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। কবির আপন মনের গোপন কথাও বলার অবকাশ ছিল না—আর তা কেউ শুনতেও চায়নি। তাই এ যুগের অধিকাংশ কাব্যই কাহিনীধর্মী এবং তাতে কোন বিশেষ ধর্ম ও সমাজের খণ্ড ও বিচ্ছিন্ন চিত্র প্রতিফলিত। মধ্যযুগের বাংলাদেশে যে বিভিন্ন জাতির সমন্বয় সাধিত হয়েছিল, সমকালীন সাহিত্য তার সাক্ষ্য বহন করছে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1991 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.