রবীন্দ্রনাথের কথাসাহিত্যে বালক
Abstract
রবীন্দ্রসাহিত্যে মানবজীবন-রহস্যের নিগূঢ় সত্যসমূহ উন্মোচিত হয়েছে নানা শৈল্পিক অনুভবে। উপনিষদ-পরিস্রুত রবীন্দ্রভাবনার জারকরসে সিক্ত হয়ে জীবনসত্যসমূহ হয়ে উঠেছে কখনও দর্শনমণ্ডিত, তাৎপর্যপূর্ণ, আবার কখনও গভীরতর অনুভববেদ্য। জীবন-যে আনন্দময়, জীবনের সাহচর্যেই যে জীবনের সত্যিকার স্ফূর্তিলাভ সম্ভব, কিংবা মানুষের শ্রম যতটুকু মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত ততটুকুই সে মনুষ্যপ্রকৃতির —এ-জীবনবোধ রবীন্দ্রনাথের শিল্পচেতনাকে বারবার স্পর্শ করে গেছে। রবীন্দ্রনাথ জীবন ও জগৎকে এক অবিচ্ছিন্ন সত্তা হিসেবে কল্পনা
করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, জড়পৃথিবীর নিত্যস্থিতির ওপর নিত্যগতির এক লীলাই বিশ্বজগৎকে সম্পূর্ণতা দিয়েছে। পৃথিবীর ধাতুপাথরের অচল ভিত্তির সর্বোচ্চ তলায় নিরন্তর চলছে এই গতির প্রবাহ, চলছে প্রাণ যৌবন ও সৌন্দর্যের প্রবাহ। স্বার্থ ও পরমার্থের সামঞ্জস্যসাধনের মধ্য দিয়ে যেমন মানবজীবনের কর্মচাঞ্চল্য সামগ্রিক ও সার্থক হয়ে ওঠে, তেমনি প্রকৃতিজগতের মধ্যেও রয়েছে বন্ধন ও মুক্তির এক বিশ্বয়কর সমন্বয়প্রয়াস। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, সমাজনীতি রাষ্ট্রনীতি ও ধর্মনীতির ভেতর দিয়ে মানুষের উন্নত্তির ইতিহাস হচ্ছে এই সামঞ্জস্যসাধনেরই ইতিহাস। তিনি মানুষের জীবনের নানা পর্বের মধ্যেও এই ঐক্যসূত্রের সন্ধান করেছেন। তাঁর মতে, ‘শৈশব যৌবন বার্ধক্য সমস্তই অপূর্বভাবে সম্মিলিত।” এ ঐক্য বা সম্মিলন হচ্ছে সুন্দরের ঐক্য সুন্দরের সম্মিলন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1991 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.