জমিদার রবীন্দ্রনাথ ও মুসলমান প্রজামণ্ডল
Abstract
১৮৯১ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারির দায়িত্ব গ্রহণ করে উত্তরবঙ্গে যাত্রা করেন। ১ গত দু'বছর ধরে জমিদারি পরিদর্শনের জন্য তাঁকে নানাস্থানে যেতে হয়েছিল, তখন জমিদারি পরিচালনার ভার তাঁর উপর অর্পিত হয়নি। নানা কারণে মহর্ষির অন্য সন্তানদের দ্বারা জমিদারির দায়িত্ব গ্রহণ সম্ভব ছিলনা বলেই রবীন্দ্রনাথের ওপর তা অর্পিত হয়। রবীন্দ্রজীবনীকার বলেছেন যে ইতিপূর্বে রবীন্দ্রনাথকে জীবনের কোন কঠিন দায়দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়নি। সাহিত্যজীবনের বিচিত্র মাধুর্যের মধ্যেই দিন কাটছিল; হঠাৎ বিরাট এজমালি ঠাকুর এস্টেটের পরিচালনার ভার তাঁর উপরে এসে পড়ল। অবশ্য, এ-কাজে তিনি একেবারে কাঁচা ছিলেন না। পিতার ইচ্ছায় বাইশ বছর বয়স থেকে তাঁকে কলকাতার সেরেস্তায় কাজ শিখতে হয়েছিল। তিনি নায়েব থেকে কেরানীর কাজ পর্যন্ত রপ্ত করেছিলেন। এবারে কবি এবং মানুষ রবীন্দ্রনাথ উপলব্ধি করলেন যে প্রজার অন্নে তাঁদের জীবনযাত্রা, সুতরাং বুদ্ধিমত্তা এবং মানবতা দ্বারা চালিত হয়ে তিনি জমিদার হিসেবে অতুল্য সুনাম অর্জন করেছিলেন। উত্তরবঙ্গে ঠাকুর পরিবারের তিনটি পরগণা—বিরাহিমপুর পরগণার সদর কাছারি শিলাইদহে, উইসুফশাহী পরগণার সদর কাছারি সাজাদপুর (একে সাজাদ-পুর পরগণাও বলা হয়); কালিগ্রাম পরগণার সদর কাছারি পতিসর। শিলাইদহ পদ্ম-গড়াই তীরে, সাজাদপুর ইছামতী তীরে এবং পতিসর নাগর নদীর তীরে অবস্থিত। গ্রাম বাংলার অবারিত প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য এবং বিচিত্র মানুষের সঙ্গ কবিকে দান করল নতুন জীবন, অভিনব চেতনা। কবি জমিদার হয়ে এসেছেন কিন্তু মানুষ হবার বাসনা তাঁর মনে কি নিদারুণ উদগ্র তা সমকালীন একটি পত্র থেকে অনুধাবন করা যায়।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1991 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.