বাংলা ধাঁধার বিষয়বৈচিত্র্য ও সামাজিক পরিচয়
Abstract
ধাঁধা এক বিশেষ ধরনের রচনা যা চেনা মনে হলেও আপাত-পরিচিত সেই বহিলোক আসলে মায়া, বাস্তবতার বিভ্রমমাত্র। ধাঁধার কুহেলিকলুষ জগতে প্রবেশ ও তার অর্থ-উদ্ধার তাই সহজ নয় এবং সে-অজ্ঞিতা প্রায়শই পণ্ডশ্রমের, অনভিজ্ঞের জন্যে বেদনার, হোঁচট খাওয়ার, মধ্যরাত্রির চন্দ্রালোকে পথ চলার মতোই কেবলই ব্যর্থশ্রমে অবসিত ও বিধ্বস্ত হওয়ার। প্রবাদের সঙ্গে ধাঁধার এখানেই লক্ষীয় পার্থক্য ও স্বাতন্ত্র্য। প্রবাদের শ্রোতা অনপেক্ষ ও অনাসক্ত, কিন্তু ধাঁধায় তার স্থান প্রশ্নকর্তার সঙ্গে একাসনে বদ্ধ। আর প্রকাশ-রূপের এই বৈলক্ষণই ধাঁধাকে করেছে গৌরবান্বিত, দিয়েছে চমৎকারিত্ব ও মেটাফোরের মর্যাদা। প্রবাদ-প্রসঙ্গে লালিত উন্নাসিক ভাবঃ ধাঁধাকারদের সম্পর্কে অনুপস্থিত। সুললিত, ছন্দময় ও শ্রবণসুভগ বাঁধার মতো গদ্য-ফর্মে রচিত ধাঁধাও সুপ্রচুর। ধাঁধার অস্তিত্বের ইতিহাসও দীর্ঘকালের। বলা যায়, মানুষের সৃষ্টিশীলতারই তা সমান বয়সী। সংস্কৃত, হিব্রু, আরবি ও ফারসি ধাঁধাসংকলনের ইতিহাসও কয়েক শতাব্দী প্রাচীন। ষোড়শ শতকে সংগৃহীত ও গ্রন্থবদ্ধ নিকোলাস রেইসনার-এর এনিগমাটোগ্রাফিয়া (১৬০২)-ই ইংরেজি ধাঁধার উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ। বাংলা ধাঁধা সংগ্রহ ও প্রকাশের প্রচেষ্টাও একেবারে অর্বাচীন নয়। সাম্প্রতিক-কালেই বাংলা একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী-সংকলিত ও কাজী দীন মুহম্মদ সম্পাদিত লোক-সাহিত্য : ধাঁধা ও প্রবাদ শীর্ষক গ্রন্থ লক্ষণীয়, একান্ত ধাঁধাসংকলনের ঐতিহ্য আমাদের নেই। এককভাবে কেবলই ধাঁধাকে উপজীব্য করে রচিত হয়েছে তেমন গ্রন্থ সুপ্রচুর তো নয়ই— বরং বিরলদৃষ্টই বলা যায়। ড. শীলা বসাক সে অভাব পূরণে সচেষ্ট হয়েছেন। তাঁর বাংলা ধাঁধার বিষয়াবৈচিত্র্য ও সামাজিক পরিচয় তাই ঐতিহাসিক মূল্যে ও তাৎপর্যে বিশিষ্ট।
বাংলা ধাঁধার বিষয়বৈচিত্র্য ও সামাজিক পরিচয়৷৷ শীলা বসাক প্রকাশক : পুস্তক বিপণি, কলকাতা।। প্রথম সংস্করণ জুলাই ১৯৯০ মূল্য : ৭৫ টাকা। us$ ১৫ : ০০
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.