নজরুলের কবিতায় মিথ-ঐতিহ্যের ব্যবহার

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v35i1.9
Crossmark

Authors

Abstract

সমাজতাত্ত্বিক এবং নান্দনিক উভয় অর্থেই আধুনিক সাহিত্যে মিথ এক সঞ্চরণশীল ও গতিময় শিল্প-অনুষঙ্গ। সভ্যতার আদিস্তর থেকে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত মানব-অস্তিত্বের জটিল জিজ্ঞাসা, গূঢ় রহস্য-অন্বেষা এবং সত্যসন্ধানের পটভূমিতে মিথের ক্রিয়াশীলতা বহুমাত্রিক। আদি মানবের ধর্ম-বিশ্বাসে মিথের বর্ণনাধর্মী ভূমিকার পর্যায় বাদ দিলেও পরবর্তী সুদীর্ঘ যাত্রায় তা সভ্যতা ও শিল্পের মস্তিষ্কসচল কর্মকাণ্ডের সহযাত্রী। মিথ একদিকে যেমন মানুষের আধ্যাত্মিক অভিপ্রায়ের সামূহিক সংকেতসূত্র, অন্যদিকে তেমনি, অবচেতন মনের সূক্ষ্মতর বিশ্লেষণের বৈজ্ঞানিক উপাদান। বিংশ শতাব্দীর কবিরা মিথকে কেবল প্রতীকী প্রকাশরীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন নি; তাঁরা এর জটিল প্রকৃতিকে ব্যাখা করেছেন, এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিত্য নব বৈচিত্র্য সৃষ্টিতে সমর্থ হয়েছেন।  কাব্য-শিল্পের চলমানতার পটভূমিতে একজন আধুনিক কবি মিথ-চেতনার উত্তরাধিকার বহন করেই হয়ে ওঠেন সৃষ্টিশীল ও বৈচিত্র্যসন্ধানী। মিথের সজ্ঞান প্রয়োগ আধুনিক কবিতায় যে গতি ও বৈচিত্র্য সঞ্চার করেছে, শিল্পের ইতিহাসে তার ভূমিকা যুগান্তকারী। রেনেসাঁস-উত্তর জীবনজিজ্ঞাসা ও শিল্প-প্রবর্তনায় মিথ পাশ্চাত্য সাহিত্যে নবতর জীবনমূল্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। উনিশ শতকীয় বাঙালির জীবনচেতনার সামগ্রিক পরিবর্তনের পটভূমিতে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ভারতীয় মিথের বিদ্রোহী চরিত্রপুঞ্জের মধ্যে কালিক সত্তার সাধর্ম্য সন্ধান করেছিলেন। তাঁর “মেঘনাদবধ-কাব্য” (১৮৬১) ও “বীরাঙ্গনা কাব্যে”র (১৮৬২) মৌল জীবনধর্ম এ-কারণেই মানবসত্তার চিরকালীন প্রতিবাদের সমধর্মী। রবীন্দ্রনাথের হাতে এই মিথ বিষয় ও প্রকরণের নিরীক্ষাশীল পরিচর্যায় হয়ে ওঠে বৈচিত্র্যময়, এবং সূক্ষ্মতর শিল্প-অভিযাত্রার বীজশক্তি।

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.
cover

Published

1991-10-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

নজরুলের কবিতায় মিথ-ঐতিহ্যের ব্যবহার. (1991). সাহিত্য পত্রিকা, 35(1), 159-174. https://doi.org/10.62328/sp.v35i1.9

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%