এস. ওয়াজেদ আলির রাষ্ট্র ও জাতি-চিন্তা
Abstract
বাঙালি জাতিসত্তায় গভীরভাবে প্রত্যয়দৃঢ় এবং হিন্দু-মুসলমানের মিলনতত্ত্বে স্থিতধী ব্যক্তিত্ব এস. ওয়াজেদ আলি ছিলেন মূলত আইনজ্ঞ, কলকাতা হাই কোর্টের বিচারক। কিন্তু কর্মজীবনের অর্থাৎ, পেশাগত পরিচয় তাঁকে অমরত্ব দেয়নি, সাহিত্য-প্রতিভা হিসেবেই তিনি ঐতিহাসিক স্বীকৃতি, মর্যাদা ও মৃত্যু- ঊর্ধ্ব জীবন লাভ করেছেন। তাঁর দ্বিতীয় পরিচয় লাভের ঘটনা আকস্মিক না-হলেও অন্যের প্রবর্তনাসৃষ্ট। সবুজপত্র (১৯১৪) সম্পাদক প্রমথ চৌধুরীর 'উপদেশ' এবং বন্ধু এস. খোদা বক্স ও সৌরিন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়ের প্রেরণাতেই তিনি ইংরেজি ছেড়ে বাংলার চর্চা করেন।১ এস. ওয়াজেদ আলির সৃষ্টিশীল প্রতিভা হিসেবে আত্মপ্রকাশের নেপথ্যে পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়ের অবদানও সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বলা যায়, তিনিই ওয়াজেদ আলিকে 'ধরে পাকড়ে বাঙলা' লিখিয়েছেন। তারপর প্রাথমিক দ্বিধা যখন কেটে গেছে, একবার যখন তিনি সাহিত্য-সাধনায় রত হয়েছেন তখন সেই সৃষ্টিজগতে আর বিরতি পড়েনি। মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত এস. ওয়াজেদ আলি ছিলেন সৃষ্টিচঞ্চল। এস. ওয়াজেদ আলির স্বীকারোক্তি অনুসারে তাঁর ‘ধাত্রী প্রতিভা' প্রমথ চৌধুরী। এস. ওয়াজেদ আলির শিল্পিমানসের সাধর্মের সঙ্গেও প্রমথ চৌধুরীর শিল্পী-চৈতন্যের বেশ সাদৃশ্য রয়েছে। তাঁরা উভয়ই রুচিবান ও অসাধারণ বৈদগ্ধ্যের অধিকারী। প্রমথ চৌধুরী কবিতা বিশেষত, সনেটের চর্চা করলেও তাঁর খ্যাতি ও সিদ্ধি মূলত প্রবন্ধকার ও ছোটগল্পকার হিসেবে। এস. ওয়াজেদ আলির ঔপন্যাসিক প্রতিভার পরিচয় আমাদের জানা নেই। সচেতনভাবেই তিনি প্রবন্ধ ও গল্পের জগৎকে তাঁর আত্মপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাঁর ভ্রমণকাহিনী রচনার দৃষ্টান্ত লক্ষণীয় হলেও এই শিল্পভুবন যে এস. ওয়াজেদ আলির স্বাভাবিক বিচরণের ক্ষেত্র ছিল না তা তাঁর মোটরযোগ বাঁচির সফর- এর নিঃসঙ্গতাই প্রমাণ।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1991 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.