চল্লিশের দশকের বাংলা কবিতা
Abstract
চল্লিশের দশক বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। একদিকে ১৯৪৫ পর্যন্ত চলেছে বিশ্বজুড়ে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ অন্যদিকে উপমহাদেশে ও বাংলায় হিন্দু ও মুসলমান উভয় পক্ষ থেকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলতে থাকে। উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে এ. কে. ফজলুল হক প্রতিষ্ঠিত কৃষকপ্রজা পার্টি মুসলিম আসনে মুসলিম লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪৩টি আসন লাভ করে। মুসলিম লীগ পায় ৩৮টি আসন। বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস নেতা শরৎ বসু ফজলুল হকের সঙ্গে কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠন করতে চান কিন্তু কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতৃবর্গ এতে অসম্মত হয়। এই সুযোগে জিন্নাহ্ নির্দেশে মুসলিম লীগ ফজলুল হকের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন করে। ফজলুল হক মন্ত্রিসভা বাংলাদেশের কৃষকের স্বার্থে ‘বঙ্গীয় চাষী ঘাতক আইন’, ‘মহাজনী আইন’, ‘বঙ্গীয় প্রজাত্ব আইন’ পাশ করে এবং “ঋণ সালিশী বোর্ড” গঠন করে। এই সঙ্গে শ্ৰমিক মঙ্গল ‘আইন’ ও ‘মাতৃমঙ্গল আইন’-ও পাশ হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে এবং শিক্ষিত মুসলমান তরুণদের চাকরির ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে বাঙালি মুসলমান মধ্যবিত্ত দৃঢ়তর ভিত্তি লাভ করে। তবে কৃষক প্রজা পার্টিতে অন্তর্বিরোধ দেখা দেয় এবং কার্যত ফজলুল হক মুসলিম লীগের মন্ত্রিসভার প্রধানে পরিণত হন এবং জিন্নাহ্ মুসলিম লীগের কার্যক্রমে ফজলুল হককে সক্রিয় করে তোলেন। ফলে মুসলিম লীগ ‘বাঙালী মুসলমানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।’ এই পটভূমিতে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৪০-এর মুসলিম লীগের অধিবেশনে ‘লাহোর প্রস্তাব’ উত্থাপন করেন। ১৯৪১ সালের মাদ্রাজ অধিবেশনে ঐ প্রস্তাবই ‘মুসলিম লীগের আদর্শ’ রূপে ঘোষণা করা হয়। লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক ফজলুল হকের সঙ্গে এর পর জিন্নাহ্ মতবিরোধ দেখা দেয় এবং জিন্নাহ্ ফজলুল হককে ১৯৪১-এর ডিসেম্বরে মুসলিম লীগ থেকে ‘বহিষ্কার’ করেন। ফজলুল হক তখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সহাতায় ‘শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা’ গঠন করেন (১২ ডিসেম্বর ৪১)।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1991 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.