এস. ওয়াজেদ আলির সাহিত্য ও শিল্পচিন্তা
Abstract
প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর এক বিক্ষুব্ধ সময়ে এস. ওয়াজেদ আলির (১৮৯০-১৯৫১) আকস্মিক আবির্ভাব ঘটে বাংলা সাহিত্যে। লন্ডনের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বার-এট-ল ডিগ্রি লাভের পর ১৯১৫ খ্রীস্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আইন-ব্যবসা শুরু করেন। বাংলা সাহিত্যের প্রতি বাল্য-অনুরাগ সত্ত্বেও বাংলায় লেখার অভ্যাস তাঁর ছিল না। তাঁর নিজের ভাষায় সবুজপত্র সম্পাদক প্রমথ চৌধুরীর উপদেশে প্রথম বাংলায় লিখতে শুরু করেন। ১৯১৯ সালে সবুজপত্রে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'অতীতের বোঝা' প্রকাশের ক্ষেত্রে এই বহির্গত চাপই ক্রিয়াশীল ছিল। অথচ প্রথম লেখার এই ইতিহাসের সঙ্গে তার পরবর্তী লেখকজীবনের যোগ অতি সামান্যই। ক্রমশ তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালি মুসলিম সাহিত্যিকদের কর্ণধার। এবং ১৯২৫ সালে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আইনজীবী পরিচয়ের পরিবর্তে তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়টিই প্রধান হয়ে ওঠে। বাঙালি মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিকাশের এই প্রাথমিক পর্বে স্বসম্প্রদায়ের রাজনৈতিক, সাহিত্যিক ও ধর্মীয় শিক্ষা ও স্বাতন্ত্র্য সম্পর্কে এস. ওয়াজেদ আলি গভীরভাবে চিন্তা করেন। নিজ জ্ঞানসীমাকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে বিস্তৃত করে সম্প্রদায়নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি স্বসম্প্রদায়ের মঙ্গল-চিন্তায় ব্যাপৃত হন। তাঁর শিল্প ও সাহিত্যনীতিও এই গভীর অনুধ্যানের ফল এবং একই সাথে তাঁর রাষ্ট্রভাবনা, ধর্মভাবনা ও বাঙালি মুসলমান সম্প্রদায়ের সার্বিক কল্যাণচিন্তার সঙ্গে গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট। সাহিত্যকে এভাবে জীবনের সকল চাঞ্চল্যের সঙ্গে বিজড়িত করে ভেবেছেন বলেই এস. ওয়াজেদ আলির কাছে শিল্প হয়ে উঠেছে জীবনসাধনার নামান্তর।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1992 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.