মনোমোহন ঘোষ
Abstract
স্মৃতিতর্পণে এক ধরনের নস্টালজিয়া মনের অগোচরে কখনো কখনো সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ফলে ক্ষেত্রবিশেষে কাজটি নির্মোহ ভাবে সুসম্পন্ন হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। তবু বলা যায় পরিণত স্তরে অতীতচারণায় মনের অকপট সত্য আবেগমিশ্রিত হলেও বেরিয়ে আসে এবং আন্তরিক সারল্যে তা মর্মকে স্পর্শ করে। জন্মলগ্ন থেকেই বহু বৈরী মন্তব্য ও শ্লেষোক্তিকে ভূষণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভযাত্রা। যাঁরা এই নবজাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে 'মেক্কা অব দি ঈস্ট’ বলে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন মনোবৃত্তিকে প্রশ্রয় দিয়ে উল্লসিত হয়ে উঠেছিলেন তাঁদের বিস্ময়ের অন্ত রইলো না যখন দেখলেন বিভিন্ন বিভাগে খ্যাতিমান শিক্ষকবৃন্দ একের পর এক যোগদান করছেন। অন্যতম কারণ, ‘তখনকার দিনে এত উচ্চ বেতন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা পেতেন না।’ বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চার তীর্থপীঠ। আর গুণীজনের সান্নিধ্যকামনায় জ্ঞান-পিপাসু - হৃদয়মাত্রই উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। তাই প্রচলিত প্রথারও ব্যত্যয় ঘটতে লাগলো। উচ্চ শিক্ষার্থে রাজধানী অভিমুখেই ধাবমান হওয়ার কথা। কিন্তু দেখা গেল কলকাতা শহরে থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে অনেকে ঢাকায় আসছেন এম. এ. পড়ার উদ্দেশ্যে। 'কেন ঢাকায় গেলাম?' – এই কৈফিয়ৎ দিতে গিয়ে শ্রীসরল গুহ লিখছেন—'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন প্রতিভার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। শিক্ষায় হাল ধ'রে আছেন সত্যেন্দ্রনাথ বসু, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ, রমেশচন্দ্র মজুমদার, হীরেন্দ্রলাল দে, হরিদাস ভট্টাচার্য, সুশীলকুমার দে, চারু বন্দ্যোপাধ্যায়, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহিতলাল মজুমদার, সত্যেন্দ্রনাথ রায় এবং আরও অনেক প্রতিভাধর অধ্যাপক পড়াশুনা হোক বা না হোক অন্ততঃ এই সকল আচার্যদের দেখতে পাবো, এঁদের কথা শুনতে পাবো এই লোভটাই আমার কাছে বড়ো হয়ে উঠেছিল।’
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1992 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.