বিদ্যাপতি
Abstract
বিদ্যাপতি ছিলেন চৈতন্য-পূর্ববর্তী কবি। তিনি বাঙালি ছিলেন না। তিনি ছিলেন মিথিলাবাসী। তাঁর মাতৃভাষা ছিলো মৈথিলী। তাঁর রচিত গ্রন্থ এবং পদাবলীর ভাষাও বাংলা নয়। সেগুলোর ভাষা মৈথিলী এবং সংস্কৃত। তবুও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিদ্যাপতির আলোচনা ঐতিহাসিক এবং ভাবগত দিক দিয়ে প্রাসঙ্গিক। বাঙালি পাঠকের কাছে এই কবির জনপ্রিয়তা অসম্ভব রকমের আর তাঁর কাব্য বাংলা সাহিত্যকে প্রভাবিত করেছে ব্যাপকভাবে। শ্রীচৈতন্য দেব বিদ্যাপতির কাব্যরস পানে হতেন বিহবল। শুধু তাই নয় আধুনিক যুগের কবি রবীন্দ্রনাথের কাছেও বিদ্যাপতির আবেদন ছিল বিস্ময়কর। এই অবাঙালি কবি দ্বারভাঙ্গার মধুবনী মহকুমার অন্তর্গত বিসফী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন প্রসিদ্ধ ব্রাহ্মণ বংশের সন্তান। তাঁর জন্ম তারিখ নিয়ে নানা মতদ্বৈধতা রয়েছে। ড. বিমানবিহারী মজুমদারের মতে বিদ্যাপতি আনুমানিক ১৩৮০ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ১৪৬০– এই সময়কাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। অধিকাংশ গবেষক এর সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তবে এর বিরোধিতাও করেছেন অনেকে। ড. আহমদ শরীফ মনে করেন বিদ্যাপতি ১৩৬০-৬৫ সময়ের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৪৫৫ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তবে বিদ্যাপতির জন্মতারিখ নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মত পার্থক্য থাকলেও এ ব্যাপারে সবাই ঐকমত্যে পৌঁছেছেন যে, বিদ্যাপতি দীর্ঘজীবী ছিলেন, প্রায় ৬০ বছর তিনি কাব্যচর্চা করেছিলেন এবং পঞ্চদশ শতকের কবি ছিলেন। অর্থাৎ তাঁর কাব্যচর্চার কালটি অন্ততপক্ষে পঞ্চদশ শতক।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1992 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.