সমকালীন নারী-ভাবনা ডা. লুৎফর রহমান ও ‘নারী তীর্থ’
Abstract
১৯৩২ সালের ২৫শে ডিসেম্বর বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সম্মেলনের পঞ্চম অধিবেশনে সাহিত্য শাখার সভাপতির ভাষণ দিতে গিয়ে কাজী আবুদল ওদুদ সমকালের মুসলিম লেখকদের মধ্যে চিন্তার ক্ষেত্রে তিন জনকে গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত করেছিলেন। তার মধ্যে ডা. লুৎফর রহমানের (১৮৮৯/৯১-১৯৩৬) নাম ছিল। বস্তুতই বাঙালি মুসলিম লেখকদের মধ্যে চিন্তাশীলতার দিক দিয়ে এই লেখকের একটি বিশিষ্ট স্থান আছে। বিশ শতকের যে-সময়ে তাঁর লেখক-জীবনের শুরু সে-সময়টা ছিল বাঙালি মুসলমানের জাতীয় জাগরণ কামনার কাল। এই কামনার সূচনা হয়েছিল পূর্ববর্তী শতাব্দীর শেষ দু-তিন দশক আগে থেকে। এ সময়কার অধিকাংশ মুসলিম লেখক অধঃপতিত ও হতচেতন নিজ সম্প্রদায়ের জাগরণ কামনায় কলম ধরেছিলেন। তাঁরা ভেবেছিলেন ইসলামের সমৃদ্ধ অতীতকে ঘুমন্ত জাতির সামনে তুলে ধরতে পারলে তারা আবার জেগে উঠতে পারবে। সেকারণে স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের মূল আশ্রয় ছিল মুসলিম ঐতিহ্য। সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, শেখ ফজলুল করিম, নজিবর রহমান, কাজী ইমদাদুল হক, মুহম্মদ ইদরিস আলী প্রমুখ লেখক এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। ডা. লুৎফর রহমান ও জাতীয় জাগরণ চেয়েছিলেন এবং বিশেষভাবে মুসলমান সমাজের অধঃপতন ও দুর্গতিই তাঁকে সাহিত্য-সাধনার পথে টেনে এনেছিল। কিন্তু যেহেতু তাঁর ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নির্বিশেষ মানুষ, সেহেতু মুসলিম ঐতিহ্য তাঁর মূল আশ্রয় ছিল না।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1992 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.