সংস্কৃত ছন্দশাস্ত্র : সংখ্যাসূচক প্রতীকী শব্দ
Abstract
বৈদিক ও ধ্রুপদী সংস্কৃত সাহিত্যে ছন্দোবিষয়ক প্রাপ্ত গ্রন্থসমূহের মধ্যে প্রাচীনতম পিঙ্গলাচার্যপ্রণীত ছন্দঃসূত্র। অবশ্য ছন্দঃসুত্রে কাশ্যপ, সৈতব, রাত মাণ্ডব্য, তাণ্ডী প্রমুখ প্রাচীন ছান্দসিকগণের নামোল্লেখ থেকে প্রমাণিত হয় যে ছন্দশাস্ত্রের উৎপত্তি পিঙ্গলের পূর্বেই অর্থাৎ খ্রি.পূ. প্রথম বা দ্বিতীয় শতকের পূর্বেই হয়েছিল'। কিন্তু আমাদের বিশাল বেদনা, এঁদের প্রণীত গ্রন্থগুলো কালের অতলগর্ভে বিলুপ্ত হওয়ায় এগুলোর সঙ্গে আমাদের কোন সাক্ষাৎ পরিচয় ঘটে নি। পিঙ্গলের পরবর্তীকালে জনাশ্রয়ী ছন্দোবিচিতি, জয়দেবচ্ছন্দঃ, বৃত্তজাতিস- মুচ্চয়, ছন্দোহনুশাসন, স্বয়ম্ভূচ্ছন্দঃ, বৃত্তরত্নাকর, সুবৃত্ততিলক, শ্ৰুতবোধ, বাণীভূষণ, ছন্দোমঞ্জরী, বৃত্তমুক্তাবলী, রাগল্লভ, বৃত্তমৌক্তিক, বৃত্তদর্পণ, জগন্মোহনবৃত্তশতক, বৃত্তরত্নার্ণব, বৃত্তকল্পদ্রুম, বৃত্তকৌমুদী, বৃত্ততরঙ্গিণী, মন্দারমরন্দচম্পূ প্রভৃতি গ্রন্থেও ধ্রুপদী সংস্কৃত ছন্দের লক্ষণ নির্দেশিত হয়েছে। ভরতের নাট্যশাস্ত্রে এবং গড়ুরপুরাণ, বামনপুরাণ, অগ্নিপুরাণ, নারদীয়পুরাণ, বিষ্ণুধর্মোত্তরপুরাণ প্রভৃতি কতিপয় পুরাণগ্রন্থেও সংস্কৃত ছন্দের লক্ষণ নির্দেশিত হয়েছে। এ-সকল গ্রন্থে উল্লিখিত ছন্দের লক্ষণ থেকে একথা স্পষ্টীকৃত যে ছন্দের সঙ্গে যতি সম্যকরূপে সংশ্লিষ্ট। যতি প্রয়োগের প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে ছন্দের মাধুর্য সৃষ্টি। যেখানে যতির ব্যবহারে কাব্যের শোক শ্রুতিদোষে দুষ্ট হয়, সেখানে যতির ব্যবহার সঙ্গত নয়। পক্ষান্তরে যেখানে যতিপ্রয়োগে শ্লোকের মনোহারিত্ব সম্পাদিত হয়, সে-স্থলে যতি অবশ্য প্রযোজ্য। একারণেই সংস্কৃত ছান্দসিকগণ শ্লোকের চারুত্ব সম্পাদনে অধিকাংশ ছন্দের যতিস্থল নির্দেশ করেছেন। কিন্তু যতিস্থল নির্ণয়ে ছান্দসিকগণ সহজ গাণিতিক সংখ্যা প্রয়োগ করেন নি, তাঁরা প্রয়োগ করেছেন সংখ্যাসূচক প্রতীকী শব্দ। ছন্দের লক্ষণ নির্ণয়েও তাঁরা কখনও কখনও সংখ্যাসূচক প্রতীকী শব্দ ব্যবহার করেছেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1992 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.