রবীন্দ্র-কাব্য পাঠ: 'কল্পনা' থেকে 'শিশু’
Abstract
একজন কবির কবি-কল্পনা যে কত বিচিত্র পথে অগ্রসর হয় তা বলা কঠিন। বিচিত্র পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিচিত্র অভিসারে তার যাত্রা। দীর্ঘ কবি-জীবন ছিল রবীন্দ্রনাথের। এই দীর্ঘ কবি-জীবনে অন্তর্মুখীনতা এবং বহির্মুখীনতা উভয় প্রকার আবেগ তাঁর কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছে। এক সময় বাইরের পৃথিবী এবং সমাজ তাঁকে যে বাস্তব প্রবণতায় উদ্বুদ্ধ করেছিল সেই একই সময়ে আবার তিনি স্বপ্নের জগৎ নির্মাণ করতে চেয়েছেন এবং কালিদাসের যুগকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কল্পনা প্রকাশিত হয় ১৩০৭ সালের বৈশাখ মাসে। এই কাব্যগ্রন্থে কবি আপন কবি-চৈতন্যকে বিহঙ্গের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বলছেন যে, বাস্তবের রূঢ়তার ঊর্ধ্বে উঠে কল্পনার জগতে উড়ে যাবার বাসনা কবির। বিহঙ্গ যেমন দূরের পথে পক্ষ বিস্তার করে যে পথ সম্পর্কে সে সুস্পষ্ট কিছু জানেনা, কবিও তেমনি কল্পনার একটি আভাময় জগৎ নির্মাণ করতে চাচ্ছেন যে জগতের সাথে তাঁর পরিচয় নেই। কল্পনা কাব্যগ্রন্থে প্রমাণিত হয় যে রবীন্দ্রনাথ কল্পনার উদার ক্ষেত্রের জন্য কালিদাসকে বেছে নিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের উপর সংস্কৃত কাব্যের প্রভাব ছিল প্রচুর এবং প্রবল। কবি কালিদাসের প্রভাবটিই সর্বাপেক্ষা প্রবল। প্রাচীন সাহিত্য নামক গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ এই প্রভাবের মুগ্ধকর বর্ণনা দিয়েছেন। ‘মেঘদূত’ নামক প্রবন্ধে প্রাচীন ভারতের কথা স্মরণ করেছেন যে ভারতের সঙ্গে আধুনিক মানুষের নির্বাসন ঘটেছে। সেখানকার সব কিছুই কবির কাছে মধুর, আনন্দময় এবং আবেগময় মনে হয়েছে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1992 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.