পালি সাহিত্য : নৈতিক জীবনবোধ
Abstract
পালি সাহিত্যের ভিত্তি হচ্ছে নৈতিক জীবন গঠনের সাধনপ্রণালী। বৌদ্ধ সাধনার দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে শীলকে (নৈতিক শিক্ষা) বাদ দিয়ে প্রজ্ঞা ও সমাধি লাভ হয় না। এ তিনটির প্রত্যেকটি একে অপরের পরিপূরক। গৌতম বুদ্ধ যে ধর্মের সন্ধান দিয়েছিলেন তা মহাসাধনার সিদ্ধফল। তিনি ব্যক্তির সীমা অতিক্রম করে বিশ্বসরাচরের সকলের জন্য কল্যাণধর্ম প্রচার করেছিলেন। মহাবগ্গ, সুত্তবিভঙ্গ, পাতিমোক্খ, দীঘ- নিকায়, মজঝিম নিকায়, ধম্মপদ, সুত্তনিপাত প্রভৃতি গ্রন্থে ভিক্ষু ও গৃহীদের আপন আপন চিত্তের উপর সংযম ও স্মৃতি জাগরুক হবার সম্যক উপদেশ রয়েছে। কারণ বুদ্ধ জানতেন, ক্লিষ্টচিত্ত সত্ত্বকে অসৎকর্মের দিকে ধাবিত করে। শীল বা চারিত্রিক শিক্ষায় সংযত মানুষকে পাপভীরু করে তোলে—সুষ্ঠু জীবনবোধে উদ্বুদ্ধ করে। বৌদ্ধ ধর্মে নিয়মানুবর্তিতা বা শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন যাপনের উপর অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বুদ্ধের ধর্মোপদেশে উচ্ছৃঙ্খলতার কোন স্থান নেই। সদাচার সামগ্রিক জীবনের ভিত্তিভূমি। বাসনাবিক্ষুব্ধ বন্ধুর জীবনভূমিতে মনের শান্ত সমাহিত ভাব— পরিশুদ্ধ জীবনচর্চার উপর নির্ভরশীল। বিশ্বজগৎ নিয়ম শৃঙ্খলায় নিয়ন্ত্রিত। অনিয়ম ও উচ্ছৃঙ্খলভাবে কোন বস্তু থাকতে পারে না। অসংযম, অমিতব্যয়িতা, প্রমত্ততা, দুঃশীলতা প্রভৃতি উন্নতির পরিপন্থী। নৈতিক জীবন পঙ্গু হলে সে ব্যক্তির কোন মূল্য নেই।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1993 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.