যুদ্ধ-ফেরৎ নজরুল ও তাঁর প্রথম কলকাতাবাস
Abstract
বর্তমান নিবন্ধে নজরুল ইসলাম করাচী থেকে কোলকাতায় ফিরে এসে, কার মেসে, কার বাসায় কোথায় কিভাবে এসে ওঠেন— সে-সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্যাদির আলোচনা করা মুখ্য উদ্দেশ্য বিধায়, কবির সামরিক জীবন সম্পর্কে আলোচনা করা হবে না। বক্ষ্যমাণ রচনায় তাই শুধু অনুসন্ধান করা হবে— যুদ্ধ শেষে বাঙালী রেজিমেন্ট ভেঙে দেয়ার পর কবি কখন, কোথা থেকে, কি ভাবে কোলকাতায় (বর্তমান ভারত) এসে কার আশ্রয় লাভ করেন। কারণ এ সম্পর্কে পরস্পর-বিরোধী মত প্রচলিত র’য়েছে। নজরুল-বন্ধু বিখ্যাত ঔপন্যাসিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন যে, নজরুল ইসলাম যুদ্ধে যাবার পর একবার ছুটিতে আসেন এবং এক সপ্তাহ দেশে কাটিয়ে আবার ফিরে যান করাচী। তিনি সে-সময় হাওড়া স্টেশনে গিয়ে তাকে তুলে দিয়ে আসেন গাড়ীতে। এর এক মাস পর নাকি ‘বাঙালী রেজিমেন্ট’ ভেঙে দেয়া হয়। সে-সময় কবি-বন্ধুর নিকট “বেগুনী রঙের কালিতে লেখা উদ্বিগ্নতায় ভরা একখানি চিঠি” এল। তাতে নজরুল লিখেছেন— তাঁদের পল্টন ভেঙে দেয়ার কথা। পল্টন ভেঙে দিলে তিনি শৈলজানন্দের আস্তানায় এসে উঠবেন ব'লেও নাকি জানান। এতে নাকি শৈলজানন্দ খুব খুশি হন। পত্রে তিনি নজরুল ইসলামকে নতুন ঠিকানা ‘রামকান্ত বোস স্ট্রীট’-এর কথা লিখে জানান। অতঃপর শৈলজানন্দের ভাষায়— “শেষ পর্যন্ত এলো নজরুল। পল্টন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। (নজরুল হ’লো) আমাদের হোস্টেলে 'অতিথি'। “কিন্তু” কয়েকদিনের মধ্যেই জানাজানি হয়ে গেল— “উনি মুসলমান”। তাই হোস্টেল সুপার- তাঁকে ‘মেস’-ছাড়া ক’রবার জন্যে চাপ দিলেন শৈলজানন্দকে। বিষয়টি নজরুলও জেনে ফেললেন। ফলে তখন তিনি শৈলজানন্দকে সাথে নিয়ে কলেজ স্ট্রীট-এ মরহুম কমরেড মুজফ্ফর আহমদের বাসায় গিয়ে ওঠেন। শৈলজানন্দের ভাষায়— “৩২ কলেজ ষ্টীটে মুজফ্ফর আহমদ সাহেব মহাসমাদরে অভ্যর্থনা করলেন নজরুলকে। তিনি যে তাঁরাই প্রতীক্ষায় ব'সেছিলেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1993 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.