আধুনিক বাঙলা উপন্যাসে পল্লীসমাজ ও জীবনের বাস্তবতা
Abstract
বাঙালি জীবনে পল্লীই এখনো প্রকৃত অর্থে বাস্তবতা, যদিও নগরের বিকাশ ঘটেছে দুই শতাব্দী ধরে, তবুও নগরবাস্তবতাকে স্বাভাবিক বলে বাঙালি এখনো মেনে নিতে পারে নি। বাঙলা উপন্যাসে বাঙালির এই মনোভাব রূপায়িত হয়ে আছে। আধুনিক বাঙলা উপন্যাসগুলো যখন রচিত হচ্ছিলো তখন বাঙালি সমাজে গ্রাম ছিলো আরো আধিপত্যশালী এবং ঔপন্যাসিকেরা প্রায় সবাই গ্রামের সন্তান। পল্লীকেই তাঁরা প্রধানত বাস্তব বলে মনে করেছেন এবং অনেকে এ পল্লীকে স্বর্গের স্তরে উন্নীত করেছেন। তবে তাঁদের বর্ণনায় ধরা পড়ে যে ওই পল্লী স্বর্গের প্রতিভাসে এক ধরনের বাস্তব নরক। কেউ কেউ সমকালীন রাজনীতিক আলোড়ন-ক্ষুব্ধ জনপদ হিসেবে পল্লীকে উপস্থাপিত করলেও, অধিকাংশ উপন্যাসেই পল্লী এক অনড় অপরিবর্তনীয় ভূখণ্ডরূপে উপস্থাপিত হয়েছে। ঔপন্যাসিকেরা পৌনঃপুনিকভাবে দারিদ্র্যের বর্ণনা করেছেন, যে-দারিদ্র্য গ্রামের সবচেয়ে বড় সত্য। কিন্তু অনেকের কাছেই ওই দারিদ্র্য একটি গৃহীত শাশ্বত ব্যাপাররূপে গণ্য হয়েছে। পল্লী সম্পর্কে একটি প্রথাগত ধারণা রয়েছে যে পল্লী হচ্ছে সূক্ষ্ম শান্তির এলাকা, কিন্তু দু’একজন ঔপন্যাসিক প্রথাগত এ-ধারণা বাতিল করে দিয়ে দেখিয়েছেন পল্লীর নারকীয় রূপের চিত্র। পল্লীসমাজ ও জীবনবাস্তবতার উপস্থাপনার ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায় যে আমাদের ঔপন্যাসিকেরা অবিকল উপস্থাপনা রীতিটি গ্রহণ করেছেন। তবে পল্লীসমাজ ও জীবনের বাস্তবতাকে পর্যবেক্ষণের দৃষ্টি অভিন্ন ছিলো না। কেউ বাস্তবতার নিরাসক্ত উপস্থাপক, বাস্তবতাকে দেখেছেন নির্মোহ দৃষ্টিতে, ওই বাস্তবতার অবিকল উপস্থাপন করেছেন। আবার কেউ অনুপুঙ্খ উপস্থাপন করা সত্ত্বেও বাস্তবতাকে দেখেছেন রোম্যান্টিক দৃষ্টিতে; ফলে বাস্তবতার নির্মমতা হ্রাস পেয়ে তা সুখকর হয়ে উঠেছে। আধুনিক বাঙলা ঔপন্যাসিকদের অনেকেই পল্লীসমাজ ও জীবনবাস্তবতার আখ্যান লিখেছেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1993 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.