বাংলাদেশের কবিতায় আত্মস্বরূপ

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v36i3.11
Crossmark

Authors

Abstract

কবিসত্তাকে ধারণ করে যে জাগৃতি, অনপনেয় সেই সচেতনতা হচ্ছে অহংবোধ। হোর্হে লুই বোর্হেস তাই সহজেই বলতে পারেন নিজেকেই নিজের লেখায় প্রতিধ্বনিত করে চলেছিলেন তিনি। পরিভ্রমণও ঘটেছে স্বনিকেত লেখমালায়। স্বৈরবৃত্ততা এবং সেই বলয় ভেঙে কবিসত্তার জায়মান হয়ে ওঠার কথা এলিয়টও একদা শুনিয়েছিলেন আমাদেরই। একথা আজ বহুবিদিত যে গীতিকবিতার নির্ণায়ক শক্তি, সেই প্রাথমিক পর্ব থেকেই, এই তন্নিষ্ঠতা। স্বকীয় মুদ্রা ও স্বচিহ্নিত হবার গরজে মধুসূদন মধ্যযুগীয় সম্মেলক কাব্যরীতিকে অগ্রাহ্য করে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব প্রস্বর। রবীন্দ্রনাথও স্বস্তি পান নি বিহারীলালের মেদুর কবিতার আবর্তনে। আত্মজাগৃতির প্রদক্ষিণময়তায় তাই তাঁর কবিতা বহুবর্ণিল, বিচিত্র জীবনানন্দ দাশও চেয়েছিলেন স্বকীয়তার বৌধায়ন। রবীন্দ্রভাষিত নান্দনিক প্রশান্তিকে অতিক্রম করে ইন্দ্রিয়সংবেদনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজস্ব স্বরায়নের গরিমায় থেকেছেন অন্বেষাচঞ্চল। প্রাচীন কবিতার সঙ্গে আধুনিক কবিতার পার্থক্য মূলত এভাবেই ঘটে যায়। আধুনিক কবিতা তাই সহজেই বলা যায়, এই ব্যক্তিময় বিশেষ জীবনচর্যার সংকেতলেখ। বাংলাদেশের চল্লিশের ও পঞ্চাশের দশকে আবির্ভূত কবিদের রচনায় এই উন্মোচন কিভাবে দ্যোতনা পেয়েছে সেই অনুসন্ধানে বৃত হবার পূর্বে আরো কিছু পর্যবেক্ষণ জরুরি। বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই বিপর্যয়ের সূত্রপাত। রাজনৈতিক স্বাধিকারচর্চার উগ্র নখরে দু'দুবার আক্রান্ত হয়েছে পৃথিবী। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, মনোজাগতিক বিপর্যাস, ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে দ্রোহ, যুদ্ধবিমূঢ় যুথজনতার তীব্র শোচনা- বিশ্বাবর্তের প্রতিটি আলোড়নে ভেঙে পড়েছে মানবের বহুবর্ষ ধরে গড়ে ওঠা শরণকেন্দ্র। শোপেনহাওয়ারই জানিয়েছিলেন প্রথম, জীবন অসম্ভবের (absurd) ওপর দাঁড়িয়ে আছে।  

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.
cover

Published

1993-06-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

বাংলাদেশের কবিতায় আত্মস্বরূপ. (1993). সাহিত্য পত্রিকা, 36(3), 193-216. https://doi.org/10.62328/sp.v36i3.11

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%