উপমায় কবিতা ও বনিতা
Abstract
কবির অপার স্বাধীনতা তার কাব্যে উপমা ব্যবহারে। এ ক্ষেত্রে তিনি বল্গাহীন হরিণ, অবাধ-গতি। তাই এক লাফে আকাশের চাঁদ ছুঁয়ে এলে, সাগরে নেমে তিমির দাঁত গুণে এলে কিংবা সৌরমণ্ডলে অবসর যাপন করে এলেও তাকে কৈফিয়ৎ দিতে হয় না। কারণ তার জগৎ আর সাধারণের জগৎ এক নয়। তার জগতে পুষ্পাঘাতে মানুষ কাতর হয়, বালি পেষণে তেল পাওয়া যায় ইত্যাদি। অর্থাৎ কবির রাজ্যে অসম্ভব বলে কিছু নেই। বাস্তবের সুন্দর সেখানে অসুন্দর হতে পারে, আবার বাস্তবের অসুন্দরও হতে পারে চরম সুন্দরের প্রতীক। এখানেই কাব্যতা। বাস্তবকে ঘিরে অবাস্তবের যে আবহ সৃষ্টি করে কবি নতুনভাবে আমাদের চিনিয়ে দেন বাস্তবকে, সেই অবহটুকুই হচ্ছে কাব্য। এই আবহটুকু সাধারণভাবে বাস্তবে থাকে না, এ কবির একান্ত নিজের সৃষ্টি। এ ক্ষেত্রে কৈফিয়ৎ চাইলে কবির সৃষ্টি-ক্রিয়া হয় ব্যাহত। স্বপ্ন- দ্রষ্টার কাছে যদি জানতে চাওয়া হয় সে স্বপ্ন দেখছে কেন তাহলে তার স্বপ্নটাই যাবে ভেঙে, স্বপ্ন-সৌধ আর রচিত হবে না, কারণ স্বপ্নলোক আর মনুষ্যলোক এক নয়। কবির কাব্যলোক এই স্বপ্নলোকের মতোই, যার সম্ভাবনা অনন্ত ও যুক্তিহীন। তাই কাব্যলোকের কৈফিয়ৎ মনুষ্যলোকে চাওয়া যুক্তিসঙ্গত নয় এবং তা দেওয়াও সম্ভব নয়। কাব্যলোকের অধিবাসী কবি আপন সৃষ্টির তুলনা খোঁজেন আকাশের চাঁদ থেকে মর্তের ধূলি-কণার মধ্যেও। যেখানে যার মধ্যেই তিনি খুঁজে পান তার সৃষ্টির সমধর্মির্তা তাকেই করেন উপমার বিষয়- হোক না তা অপরের কাছে অসম্ভব কিংবা অসুন্দরও।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1993 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.