জয়নুল-শিল্পে স্বদেশ-প্রকৃতির রঙরূপ: প্রেক্ষিত জলরঙ ও অন্যান্য মাধ্যম-প্রকরণ
Abstract
বাস্তবানুগ প্রকৃতি-অন্বেষায় জয়নুলের কর্মপ্রক্রিয়া: ইম্প্রেশনিস্ট যুগের শিল্পীদের উদ্ভাবিত ওই শিল্পধারার অঙ্গ হিসেবে চর্চিত হতো বাইরে গিয়ে স্পটে ব'সে ছবি আঁকার পদ্ধতি। তাঁদের আগে এই নিয়মটির গুরুত্ব ছিলো না। ঘরের ভিতরে ব’সে ছবি আঁকার রেনেসাঁ আমলীয় পুরাতন পদ্ধতিই চালু ছিলো। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ চতুর্থাংশে এসে এই নবতর চিত্রাঙ্কন রীতি চালু হয়। জয়নুল আবেদিন, আমরা জানি তাঁর অনুসৃত শিল্পধারার [প্রাথমিক পর্যায় একাডেমিক-পর্বপরবর্তী] দ্বিতীয় পর্বে, ইম্প্রেশনিস্ট রীতিতে কাজ করেছেন- সেদিক থেকে বলা যাবে ঘরের বাইরে গিয়ে তিনি দৃশ্যচিত্র রচনার কাজে অভ্যস্ত হয়েছিলেন অনেক আগেই, যখন তিনি একাডেমিক ধারায় কাজ করতেন তখন থেকে। মূলত স্কেচ এবং জলরঙের কাজই তিনি এভাবে করতেন, এছাড়া তেলরঙে বা গোয়াশেও করেছেন। আশেপাশের পরিবেশ ছাড়াও নদী আকাশ ও দিগন্তজোড়া নিসর্গদৃশ্য তিনি আঁকতেন। তবে নিসর্গ-প্রকৃতির মূল আকর্ষণ তাঁর দিক থেকে ছিলো গ্রামীণ সমাজ তথা গ্রাম-বাংলার মানুষের জীবনযাপনের অঙ্গ হিসেবে তাদের দৈনন্দিন শ্রমনিষ্ঠ জীবন তাঁকে আকর্ষণ করতো বেশী। তিনি তাদের সাথে মিশতেন, তাদের সঙ্গে সময় কাটাতেন, খাওয়া দাওয়া করতেন, গল্প করতেন-আর আকঁতেন ছবি। এই আউটডোর কাজের নেশায় বিভোর হয়ে থাকতেন তিনি। ছোটবেলায় ব্রহ্মপুত্রের তীরে তীরে ঘুরে বেড়াতেন, মাঝি-মাল্লা- কৃষক এঁদের সঙ্গে সখ্যতা গড়তেন তাদের ছোট পর্ণকুটির পর্যন্ত যেতেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1993 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.