কেশবচন্দ্রের ধর্মসংস্কার : নববিধান প্রসঙ্গ
Abstract
আধুনিক পণ্ডিতদের মতে রাজা রামমোহন ছিলেন বাঙলার নবযুগের প্রবাদ -পুরুষ। তাঁর হাতেই বাঙালি নবজাগরণের দীক্ষামন্ত্র গ্রহণ করেছিলো। তিনিই বাঙালি জাতির প্রাণদাতা, জাতির নতুন পথে এগিয়ে চলার মন্ত্রণাদাতা ও প্রেরণাদাতা। বাঙালির মধ্যে তিনিই প্রাতঃমনীষী, যিনি গণমানুষের মধ্যে সার্বভৌমিক ধর্মের আদর্শকে প্রচার করেন। তাঁর এ আদর্শকে আরও একধাপ এগিয়ে নেন তাঁরই সুযোগ্য মানসপুত্র মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি ছিলেন লোকোত্তর মহামানব। ভারতের শিক্ষা ও ধ্যান-ধারণার মধ্য দিয়ে তিনি দীক্ষাগুরু রামমোহনের ভাবাদর্শকে পরিস্ফুট করার চেষ্টা করেছিলেন। রামমোহনে যা ছিলো অসমাপ্ত, দেবেন্দ্রনাথে তাই পরিপূর্ণ রূপ ধারণ করে। রামমোহনের দীক্ষামন্ত্র ও ভাবাদর্শের আলোকে তিনি বাঙালির অন্তরে জাগ্রত করলেন একটি নতুন ভাব, নতুন উন্মাদনা ও নতুন উদ্যম। আর এই রামমোহন-দেবেন্দ্রনাথের ক্রমধারায় তাঁদের যথার্থ উত্তর সাধক হিসাবে বাঙলার ঝটিকা তাড়িত আধ্যাত্মিক গগনে আবির্ভূত হন আচার্য কেশবচন্দ্র সেন (১৮৩৮-৮৪)। তিনি ছিলেন বাঙলার প্রাণপুরুষ, উনিশ শতকের বাঙলার দ্বিতীয়ার্ধের এক সফল যুগসারথি । জাতীয়তাবোধের বিজয়শঙ্খসুলভ সমাচার হাতে নিয়ে ধর্ম, সমাজ ও শিক্ষা সংস্কারের মাধ্যমে তিনি বাঙালিকে দান করেছিলেন নতুন পরিচয়, মানুষকে সচেতন করেছিলেন তাঁর প্রকৃত স্বরূপ ও অবস্থা সম্পর্কে। তিনি ছিলেন সত্যানুরাগ ও ধর্মনিষ্ঠার এক যথার্থ বিগ্রহমূর্তি। তাঁর হাত দিয়েই বাঙলার নবযৌবনের ললাটে রাজ তিলক অঙ্কিত হয়েছিলো। তাঁর মধ্যেই রামমোহন ও দেবেন্দ্রনাথের আধ্যাত্মিক চেতনা চরম পরিণতি লাভ করে। বলা বাহুল্য, ধর্মসংস্কারের মাধ্যমেই আচার্য সেন তাঁর আধ্যাত্মিক চেতনার স্ফূরণ ঘটান। নববিধানের বিশেষ উল্লেখপূর্বক আলোচ্য প্রবন্ধে আমরা তাঁর ধর্মসংস্কার নিয়ে আলোচনা করবো। তবে তার আগে আচার্য সেনের ব্যক্তি পরিচয় ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে কিছু বলা প্রাসাঙ্গিক।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.