জীবনানন্দের কাব্যভাবনা
Abstract
১৩৬১ সালে পৌষ মাসে 'কবিতা' পত্রিকায় নরেশ গুহ যখন 'জীবনানন্দ- দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা' নিয়ে আলোচনা করেন তখন অনেকের জানা ছিল না কবিতা নিয়ে লেখা জীবনানন্দের অসংখ্য গদ্য রচনার কথা ('কবিতার কথা' বইটি প্রকাশিত হয়েছে ফাল্গুন ১৩৬২ সালে) আর সেই জন্যই সম্ভবত তখন সমালোচকের মনে হয়েছিল, “আমাদের জ্যেষ্ঠ কবিদের মধ্যে অনেকেই প্রাবন্ধিকও। ... জীবনানন্দ শুধুই কবিতা লিখেছেন, কবিতা ছাড়া আর কিছুই লেখেননি। তাঁর যে দু-চারটি প্রবন্ধ সাময়িক পত্রের পাতায় প্রক্ষিপ্ত হয়ে আছে সে- ও একরকম কবিতাই । তাঁর কবিতারই মতো বিশেষ এক ধরনের গদ্যে লেখা।” অথচ দু-চারটি প্রবন্ধ নয়, জীবনানন্দ অনেক প্রবন্ধ লিখেছিলেন (বিশেষ এক ধরনের গদ্যে লেখা গল্প উপন্যাসের কথা বাদই দিচ্ছি), কবিতার কথা' বইতে আছে ছোট-বড় পনেরোটি প্রবন্ধ। তার বাইরেও আছে আরও অনেক প্রবন্ধ, গ্রন্থসমালোচনা, কাব্যগ্রন্থের ভূমিকা — পত্রসাহিত্যের কথাও স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ্য । জীবনানন্দ গদ্য রচনায় অনাগ্রহী ছিলেন না, তবে গদ্য রচনা প্রকাশে ও প্রচারে হয়তো কিছুটা নিরুদ্যম। কবিতার মতো তাঁর গদ্যও নিশ্চয় এক স্বতন্ত্র রচনাশৈলীর নিদর্শন, বাক্য গঠনে সেই রকমই প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম, শব্দ নির্বাচনে (কখনও শব্দ নির্মাণে) অভিনবত্ব পদে পদে। কিন্তু তাই বলে কবির লেখা গদ্য, সেও একরকম কবিতাই'—এমন ভেবে তাকে প্রবন্ধ সাহিত্যের আঙিনার বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা অন্যায় হবে। জীবনানন্দের গদ্যে ভাবনা কথা ও ইঙ্গিতের দুর্লভ স্বল্পতার ভিতর দিয়ে মানবসমাজকেই চিনে নেবার ও চিনিয়ে দেবার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সেখানে বিশেষভাবে মিলবে তাঁর মনন-প্রতিভার পরিচয়। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েক লাইন উদ্ধৃতির সাহায্যে হয়তো সব সময় গদ্যকার জীবনানন্দের সবটুকু বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে না।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.