পদ্মাবতী কাব্যে পুরাণ প্রসঙ্গ
Abstract
পুরাণ বা মিথ প্রসঙ্গটি জটিল ও ব্যাপক এবং শিল্প ও সাহিত্যের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে পুরাণ বলতে ব্যাসাদি মুনি-প্রণীত শাস্ত্ৰকেই বুঝায় যা প্রাচীন ধর্ম, সমাজ, ঘটনা, চরিত্র ও ঐতিহ্য অবলম্বনে রচিত। সভ্যতার সঙ্কটে বিশেষ করে শিল্প-বিপ্লবের সূচনা থেকেই সৃজন ও মননশীল শিল্পীরা পুরাঞ্জ প্রসঙ্গ বা মিথের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন; ফলে প্রভাবিত হয়েছে শিল্পের প্রায় সমস্ত শাখা। বাংলা নবজাগরণে অনুপ্রাণিত বাঙালী মানস পুরাণ প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ হয়েছে এবং কালের পরিপ্রেক্ষিতে পুরাণ পেয়েছে নতুন তাৎপর্য। মাইকেল মধুসূদন দত্ত, হেমচন্দ্র, নবীনচন্দ্র, দীনবন্ধু মিত্র প্রমুখ পুরাণের সচেতন পরিচর্যা করেছেন। 'মেঘনাদবধ কাব্যে' রাবণ শৃঙ্খলিত মানবাত্মার প্রতীক, 'বীরাঙ্গনায়' নারী ব্যক্তিস্বাতন্ত্রে দীপ্র, 'ব্রজাঙ্গনায়' রাধা নবমূর্তিতে উদ্ভাসিত। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বা মোহিতলালের কাব্যে বিভিন্ন পুরাণের সচেতন পরিচর্যা লক্ষণীয়। পরবর্তী পর্যায়ে ইয়েটস-এলিয়টের মিত চেতনায় প্রভাবিত তিরিশের দশকের কবিদের পুরাণ প্রয়োগে রয়েছে মননের ঔজ্জ্বল্য। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য পুরাণের অনুরাগী বিষ্ণু দে বক্তব্য প্রকাশের বিশেষ মাধ্যমরূপে পুরাণের ব্যবহার করেছেন। বোদলেয়ার প্রভাবিত বুদ্ধদেব বসুর উপমা চিত্রকল্পে পুরাণের বিষয় সম্পৃক্ত প্রকাশ ঘটেছে। আর জীবনানন্দ দাশের কবিতায় লোকজ স্মৃতিযুক্ত পুরাণ ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছে। আধুনিককালে পুরাণের বিশেষ সাহিত্যিক মূল্যায়ন সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে পুরাণ প্রয়োগে করেছে উদ্বুদ্ধ।
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.