সোস্যুর এবং ভাষা বর্ণনা
Abstract
ভাষার পৃথিবীতে একটা আপাত নৈরাজ্য আছে যার প্রথম দর্শনে যেকোনো তাত্ত্বিক বলবেন
ক. ভাষা অত্যন্ত বিভেদ-বিভ্রমী:
খ. অত্যন্ত ব্যক্তিগত, অথচ একই সঙ্গে সমষ্টির সংজ্ঞায় বাঁধা :
গ. অতীব ভঙ্গুর ও মরণশীল:
ঘ. জাতি, ধর্ম, শ্রেণী, লিঙ্গ প্রভৃতি বিভিন্ন সামাজিক এককের সঙ্গে সম্পর্কিত অথচ একেবারে স্বতন্ত্র; এবং
ঙ. ভাষার আকরণই এমন যে তার এক পা পৃথিবীতে, অন্যটি আকাশে—একপক্ষে ধ্বনি নামক ভাষাঙ্গটি যেমন বাস্তব উচ্চার্য এবং ব্যবহার্য সত্য, অর্থের দিকটি যেন তেমনি না জানা না বোঝা না ধরা এক উচ্চাঙ্গ বিমূর্ত কল্পনা। ভাষার এই বিভিন্নতা, বর্ণন-কঠিনতা, অনিত্যতা, স্বাতন্ত্র্য বেং বৈপরীত্য- পাঁচটি বিশিষ্টতা নিয়ে যুগ-যুগ ধরে দার্শনিক, ব্যাকরণবেত্তা, সাহিত্যিক অথবা নিছক চিন্তাশীল ভাষী মানুষমাত্রই অনেক কথাই ভেবে এসেছেন। যাঁরা ভাষার বিভিন্নতার রহস্যভেদ করতে জীবনপাত করেছেন তাঁদের মধ্যে একদল বলছেন প্রতিটি ভাষা অন্যটির থেকে বিভিন্ন চলনে বলনে গঠনে উচ্চারণে, অতএব ভাষার ছাত্রদের উচিত এই ভাষাভেদের স্বরূপ-নির্ণয় করা, এক ভাষা থেকে অন্যটির পার্থক্যের পরিমাপ করা এবং একটির থেকে অন্য সবগুলির দূরত্বের নিরিখে ভাষাবিশেষের চরিত্র-নির্ধারণ করা। আবার অন্যদল বলছেনএমন বিষম বিজ্ঞান ভাষাবিদকে করবে বিভ্রান্ত; বরং আমাদের ভাষাসমূহের মধ্যে পরস্পরভেদ সত্ত্বেও যে অন্তর্নিহিত সাম্য রয়েছে, ভাষিক সর্বজনীনতার যে ফল্গুধারা বয়ে চলেছে প্রতিটি ভাষার ও ভাষীর ধমনীতে—আমাদের সেই সার্বিকতাটিকেই জানতে হবে, আবিষ্কার করতে হবে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.