জীবনানন্দের মিথচেতনার স্বরূপ-সূত্র
Abstract
'চেতনা' শব্দটি মননক্রিয়া ও জ্ঞান-নির্দেশক হলেও কবির চেতনা স্বতন্ত্র, স্বত:স্ফূর্ত নান্দনিক সংবেদনলব্ধ প্রজ্ঞান; শিল্পসৃষ্টির আবেগই হল তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা— মনন তার একটি মাত্রা মাত্র। মানববুদ্ধি বিকাশের সূচনালগ্নেই জেগেছিল মননের ক্রিয়াবৃত্তি— বস্তুবিশ্বচেতন-অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এর বিবর্তন ঘটে থাকে। মিথসৃষ্টির কালে আদিমানুষ তার বিস্ময়মিশ্র কল্পনা ও চিন্তার একটি ধরন খুঁজে নিয়েছিল, যা দিয়ে সার্বভৌম ধারণার মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য করে নিত বস্তুবিশ্বের ব্যাখ্যা-ঘটনা, মন ও প্রবৃত্তির রহস্যময়তা এবং ঐ ধরনই তাদের সূত্রবদ্ধ করে দিত কিছু স্বত:সিদ্ধ বিধানের সঙ্গে, একীভূত করে রাখত সম্মিলিত মানব প্রজাতির সঙ্গে এবং সংজ্ঞায়িত করত ব্যক্তি ও বস্তুকে। বস্তুরূপের মধ্যে কল্পনার বিশাল মূর্তজগৎ রচনার ক্ষমতাও তারা অর্জন করেছিল, মিথকাঠামো যার ধারক। অনুরূপ দৃষ্টিক্ষমতার চর্চায় আজও আমাদের মনন চিন্তা করে, বস্তু-অভিজ্ঞতাকে দেয় কল্পমূর্তির সত্যতা, যদিও আমরা সহজ বিশ্বাসের সারল্য থেকে চ্যুত হয়েছি। আদি শৈশবের বিমূঢ়-চিত্ত, বিহ্বল ভাবময়তা সভ্যতার জটিল বাঁক পেরিয়ে এখন তুলনামূলকভাবে পরিপক্ক ও স্বাধীন, বিমূর্ত কল্পনার উচ্চস্তরে আমাদের ইন্দ্রিয় বিকচ ও উত্তীর্ণ, আমাদের প্রকাশক্ষমতাও অনুসূক্ষ্ম এবং ব্যক্তিক। একালের মানুষের মিথচেতন-বৃত্তিটি মূর্তকেই করে বিমূর্ত, বহুস্তরবিশিষ্ট চৈন্যের সঙ্গে তার নিত্যবসবাস। আজকের কালপরিধির মানুষ পেয়েছে চিত্তের 'প্রকাশ ক্ষমতা, সৌন্দর্যবোধ, অতীন্দ্রিয় অনুভূতি এবং মূলত বিজ্ঞান-দৃষ্টি। এসবের প্রণোদনায় বেড়েছে দেশকালের পরিসর ও সৃষ্টি হয়েছে ঘটনার বহু-আয়তনিক তাৎপর্য, বিশ্বজগতের ব্যাপ্ত-দৃষ্টিলোকের মধ্যে তার সঞ্চরণ উন্মুক্ত ও অবাধ, বিশেষ কোন একটি স্বতঃসিদ্ধ বিধানের প্রতি অন্ধ দায়বদ্ধতা তার নেই, গোষ্ঠিগতভাবে সম্মতি প্রদানের বৈকল্য থেকেও ঘটেছে তার মুক্তি। কিন্তু পরিবর্তে আরও এক অদৃশ্য বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ ও বিধানের বেষ্টনী এখন মানুষকে ঘিরে আছে। মিথ-বিনির্মাণ এখন আরও গভীরতর তাৎপর্যে বিশিষ্টতাপ্রাপ্ত।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1996 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.