পালি সাহিত্যে নারীর গার্হস্থ্যজীবন : একটি পর্যালোচনা
Abstract
প্রাচীন ভারতের বৌদ্ধযুগে নারীচরিত্রে ধর্মীয় জীবনের প্রতি উৎসাহ ও বিমুক্তিমার্গ অনুসরণের প্রতি আগ্রহই বেশি প্রকট হয়েছে। ব্রাহ্মণ্যযুগের সতীলক্ষ্মী, ন্যায়-আদর্শ ভার্যারূপে নারীত্ব প্রকাশের প্রতিফলন পালি সাহিত্যে অপেক্ষাকৃত কম হলেও আধ্যত্মিক জীবনে প্রবেশের পূর্বে তাঁদের গার্হস্থ্য জীবনের প্রতিচ্ছবি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। বুদ্ধ ভিক্ষুণীসংঘ প্রতিষ্ঠা করে মহিলাদের ধর্মে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছিলেন। ফলে সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়, গোত্র, স্তর, শ্রেণী হতে নারীরা সেখানে যোগদান করেন। এখানে সদ্বংশজাত পতিপরায়ণা ও উচ্চবংশজাত রাজ-পরিবার এবং ধনী ব্যক্তিদের স্ত্রী-কন্যাদের যেমন সমাবেশ ঘটেছে, তেমনি বিবাহিত, অবিবাহিত, বিধবা, ক্রীতদাসী, বারবণিতার সংখ্যাও কম নয়। বলতে গেলে, সমাজের সর্বস্তরের নারী বৌদ্ধ ভিক্ষুণী বা সন্ন্যাসিনীরূপে মুক্তিমার্গ অনুশীলনে পরবর্তী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। তাঁদের গার্হস্থ্য জীবনের কথা নিজেরাই কবিতা বা উক্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।কপিলাবস্তুর রাজা শুদ্ধোদনের মহাপ্রয়াণে তাঁর বিধবা পত্নী মহাপ্রজাপতি গৌতমী অভিজাত বংশোদ্ভূত পাঁচশত সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির স্ত্রীসহ ভিক্ষুণী হিসেবে পরবর্তী জীবন অতিবাহিত করার জন্য বুদ্ধের অনুমতি পেয়েছিলেন। কালক্রমে এর পরিব্যাপ্তি ঘটে। তাঁরা বুদ্ধের উপদেশ শুনে সাধনমার্গে বিচরণ করে বিমুক্তি লাভ করেছিলেন। সাধনমার্গে তাঁদের উন্নতিতে তাঁরা হৃদয়ের যে উচ্ছ্বাস ব্যক্ত করেছিলেন সেই প্রতিধ্বনিই ত্রিপিটকের থেরীগাথা, থেরী-অপদান, পরমখদীপনী প্রভৃতি গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.