আর্টের অত্যাচার ও জীবনানন্দ দাশের ছোটগল্প
Abstract
জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪) জীবিতকালে কবিতা প্রকাশে অনলস ও প্রবন্ধ প্রকাশে দ্বিধাহীন হলেও গল্প-উপন্যাস থেকে যায় পাণ্ডুলিপি-বন্দি। কোন শৈল্পিক প্রেরণা তাঁকে গল্প-উপন্যাস লিখতে বাধ্য এবং কোন্ দ্বিধাসংশয় প্রকাশে করে অনিচ্ছুক তা আজও অনুদ্ঘাটিত। সাধারণভাবে মনে হয়, যে আবেগ-অনুভব ও তত্ত্ব তিনি কবিতায় আবদ্ধ করতে সক্ষম হননি, কিংবা শৈল্পিক মান সম্পর্কে ছিলেন সংশয়ী, তা আবদ্ধ হয় গল্পের রূপাঙ্গিকে। কেননা প্রকাশের রহস্যময় তাড়না থেকে শিল্পীর নিস্তার নেই, এবং শিল্পীর অনন্য স্বাতন্ত্র্য ও অহঙ্কার সূত্রে 'জীবনানন্দ আসলে ভেবেছিলেনরবীন্দ্র-প্রতিষ্ঠিত প্রত্যয় উজ্জ্বল জগৎ-বিশ্বাসের বিপরীত অনুভবকে ঠিকমতো প্রকাশ করা যাবে? ভেবেছিলেন, কবিতায় না পারলে চেষ্টা করবেন গদ্যে- কারণ বলার কথাটা বলে যেতেই হবে—এই রহস্যময় আত্মতাড়না থেকে প্রতিভার পরিত্রাণ নেই। তবে কবিতায় শিল্পসৃষ্টির যে-আনন্দ জীবনানন্দ অনুভব করেছেন, গল্পে সে-আনন্দ একাত্ম হয় নি। এখানে তাঁর সচেতন মন, তত্ত্বপ্রবণ সক্রিয়তা ভাবপ্রতিভাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে সর্বদা। মনে হয় তিনি যেন দায়বদ্ধ কোন উদ্গারে ব্যস্ত প্রায়শ এবং এ-জন্যে তাঁর গল্প-উপন্যাস ঠিক জীবনরসে রসময় নয়। তত্ত্বভাবনায় জটিল। এর সপক্ষে শিথিল প্লটের আপাত বিশৃঙ্খলা, চরিত্রের বিস্তারহীনতা, পরিবেশ-বিচ্ছিন্নতা, কাম্য চরিত্রের বিপরীতে তত্ত্বালোচনায় দ্রুত পরিণত প্রয়াস ও উন্মোচনের নগ্নতা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাঁর গল্পে যৌন সংকট ও অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা ব্যক্তিকে বিরক্ত, বিপর্যস্ত ও সক্রিয় রাখে এবং যৌন ও আর্থ সংকট-পৃষ্ট অনুভূতিশীল ব্যক্তিসত্তার রক্তাক্ত আত্ম-উন্মোচনই মুখ্য হয়ে ওঠে জীবনানন্দ দাশের অন্তর্জগৎ রক্তাক্ত হয়েছে বিচিত্র বিপরীতমুখী ঘটনা-স্পর্শে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.