মুসার সওয়াল : নসরুল্লাহ খোন্দকার বিরচিত
Abstract
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ প্রদত্ত তিনখানা খণ্ডিত পুথির সাহায্যে ‘মুসার সওয়ালের প্রতিলিপি তৈরি করি ১৯৬৫ সনের নভেম্বর মাসেই। কিন্তু খণ্ডিত বলেই এবং ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ পুথি প্রাপ্তির সম্ভাব্যতার আশায় প্রত্যাশায় এ খণ্ডিত পাঠ ১৯৭৬ সনে বাঙলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত ও আমার সম্পাদিত ‘সওয়াল সাহিত্য-এ সংকলিত করিনি। বত্রিশ বছর অপেক্ষার পরেও পুর্ণাঙ্গ পাঠ যোগাড়ের আশা পরিহার করে এ পুথিকে ছাপার হরফে স্থায়িত্বদানের জন্যেই এবং ভবিষ্যৎ গবেষকদের ও সাহিত্যের ইতিহাস প্রণেতাদের কাজে লাগতে পারে মনে করে ‘মুসার সওয়াল মুদ্রণের ব্যবস্থা করছি। ইতোপূর্বেকার তৈরি পাঠের নতুন করে প্রতিলিপি তৈরি করতে হল, কাগজের দোষে সেপাঠ জীর্ণতা পেয়েছে বলেই। প্রাচীন ও মধ্যযুগে জ্ঞানের কথা, তত্ত্বকথা, ভাবের কথা সাধারণত গুরু- শিষ্যের প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমেই পরিব্যক্ত করা হত। এভাবেই বিদ্যাচর্চা, জ্ঞান আহরণ হয়তো সেই নিরক্ষরতাবাহুল্যের যুগে আবশ্যিক ছিল। গ্রীক পণ্ডিতরাও এমনি প্রশ্নোত্তর পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছিলেন, আমাদের এদেশে মহাভারতের অধ্যায় ‘গীতাও কৃষ্ণার্জুনের কথোপকথনেরই লিপিবদ্ধরূপ। তা ছাড়া বিরল হলেও আজো আমাদের দেশে নিরক্ষর নারী-পুরুষের হিতার্থে লোকশিক্ষার লক্ষ্যে বৈষয়িক জ্ঞান- বিদ্যা-শাস্ত্রকথা প্রচারের জন্যে 'কবিগান' 'কবির লড়াই' নামে কবিওয়ালা বা কবিয়ালদের কথকতার অনুষ্ঠান হয় গাঁয়েগঞ্জে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমেই ধাধার তাৎপর্য ব্যাখ্যার স্থূল-সুক্ষ্ম জগত্তত্ত্বের ও জীবনভাবনার আর সামাজিক-নৈতিক ন্যায়- অন্যায়ের রূপ-স্বরূপ বয়ান করা হয় দুই কবিদলের প্রতিযোগিতা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক উত্তর-প্রত্যুত্তরের মাধ্যমে। 'চাপান' মানে প্রশ্ন করা, ‘উত্তর' মানে উত্তর দেয়া। পদ্যে জুতসই উত্তর দ্রুত তৈরির বাকপটুতার, অঙ্গভঙ্গির আর জ্ঞানের পরিসরের ও প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের মাপে-মানেই হয় কবিয়ালের শ্রেষ্ঠত্বের বিচার।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.