নজরুলের লেটোগান
Abstract
কৈশোরে লেটোগান রচনার মধ্যে দিয়ে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা রচনার হাতে-খড়ি হয়। লেটোগান চুরুলিয়া তথা বর্ধমান জেলার আঞ্চলিক লোকগীতি। শুধু বর্ধমান কেন, পার্শ্ববর্তী বীরভূম, হুগলি, নদীয়া জেলাতেও এ গানের প্রচলন ছিল। বর্ধমান-বীরভূম জেলায় এ-গান আজও প্রচলিত আছে।লেটোগান কি? নাট্য থেকে 'লেটো' শব্দের উদ্ভব। নাট্য> নাট ; নাট + উয়া (স্বার্থে) = নাটুয়া > নেটো > লেটো। যে গানে নাট্যের ভাব আছে, তাই লেটোগান। অর্থাৎ এ গান অভিনয়াদি সহযোগে পরিবেশিত হয়। শুধু অভিনয় নয়, এতে নাচ ও বাদ্যের স্থান আছে। অন্য কথায় গান, নাচ অভিনয় ও বাদ্য সমন্বয়ে লেটোগান একটা মিশ্ররীতির সঙ্গীতধারা। মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও রাজশাহী জেলায় প্রচলিত 'আলকাপ' একই রীতির লোক-সঙ্গীত। উভয় দলীয় সঙ্গীত, উন্মুক্ত মঞ্চে রাতভর পরিবেশিত হয়। প্রধানত মুসলমান কৃষক সমাজ এসব গানের সমঝদার ও ভোক্তা ; তারাই গানের দল গঠন করে, গান রচনা করে, অবসরকালে মেলাদি অনুষ্ঠানে গানের আয়োজন করে। গ্রামের কিশোর, তরুণ, যুবকরাই মুখ্য ভূমিকা নিয়ে থাকে। লোকমনোরঞ্জন নিমিত্ত আয়োজিত এসব লৌকিক অনুষ্ঠান সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে। লেটো ও আলকাপ গানের গঠন-প্রকৃতি ও পরিবেশনরীতি বিশ্লেষণ করলে বাংলার বহুল প্রচলিত যাত্রাগান যে এর উৎস ভূমি, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.