নজরুল-সাহিত্যের ভাষা-বৈশিষ্ট্য

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v42i1.8
Crossmark

Authors

Abstract

কবিতার দৈহিক কাঠামো নির্মাণে ও প্রসাধনকলা রূপায়ণে শব্দ ব্যবহারের গুরুত্ব সর্বাধিক। কবিতার রূপকল্প নির্দেশে অধিকাংশ সময় রূপক, অনুপ্রাস, চিত্রকল্প বা ছন্দের দিক প্রাধান্য পেলেও শব্দ বা বৃহত্তর অর্থে ভাষা প্রয়োগের আনুষঙ্গিক দিক বা অন্য অর্থে স্টাইলিস্টিকস আলোচিত হয় না বলে ভাষা নির্মাণের অন্তর্নিহিত কৌশল নেপথ্যে অবস্থান করে। শব্দ ব্যবহারে ধ্বনির পারস্পরিক বিন্যাস, অনুরণন ও স্বরতরঙ্গের দিক অনুসৃত হয়ে থাকে। একজন কবি কবিতার অবয়ব নির্মাণে শব্দ- গঠনের এই দিকগুলি সচেতনভাবে চিন্তা করেন বলে তাঁর কবিতা ও সাহিত্য বিশ্লেষণে সাহিত্যের রূপগত এই বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে ভাষা সম্পর্কে কবি-চেতনার বিশেষ মনোভঙ্গি মূর্ত হয়ে ওঠে। নজরুল ইসলাম ভাষা-সচেতন শিল্পী। তাঁর সাহিত্যে বাক্যদেহ নির্মাণ, শব্দ ব্যবহার ও নতুন শব্দ গঠন, ধ্বনিব্যঞ্জনা, আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার ও আরবি- ফারসি-হিন্দি শব্দের প্রাচুর্য ভাষা সম্পর্কে তাঁর সচেতনতার দিক নির্দেশ করে। তাঁর সাহিত্যে ব্যবহৃত তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দ ব্যবহারের রীতি ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন এজন্যে যে, সাহিত্যের গঠনগত রূপ-নির্মাণের সঙ্গে শব্দ-ব্যবহারে কবির শিল্প দক্ষতার পরিধি অনাবৃত হয়ে চিনতে সহায়তা করে। গদ্য সাহিত্য, বিশেষত কবিতায় শব্দের বিভিন্ন উপাদান লক্ষ্য করলে শব্দের অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্য দৃষ্টিগোচর হয়। একটি শব্দের দ্বিধারিক অর্থ ক্রিয়াশীল থাকে – আভিধানিক অর্থ, যা নির্দিষ্ট এবং পরিবেশগত অর্থ, যা অনির্দিষ্ট। কবিতার নিম্নস্তরে শব্দের প্রচলিত অর্থ নির্দেশিত হয় আর উচ্চস্তরে প্রচলিত অর্থের বাইরে গিয়ে কবি ভিন্ন অর্থের সন্ধান করেন। কবিতায় শব্দের মধ্য দিয়ে স্তবক নির্মিত হলেও শব্দের ধ্বনিব্যঞ্জনার একটা স্বতন্ত্র গুরুত্ব আছে, যা স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চগ্রাম ও নিম্নগ্রামের মধ্য দিয়ে নির্দেশের চেষ্টা করা হয়।

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.
cover

Published

1998-10-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

নজরুল-সাহিত্যের ভাষা-বৈশিষ্ট্য . (1998). সাহিত্য পত্রিকা, 42(1), 242-253. https://doi.org/10.62328/sp.v42i1.8

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%