নজরুল-সঙ্গীত : বাণী ও সুরের বিকৃতিরোধের সম্ভাব্য প্রক্রিয়া
Abstract
সংগীতের ইতিহাসে কবি নজরুল ইসলাম একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায় সংযোজন করেছেন। গীতিকার, সুরকার ও গায়ক-সংগীতের এই তিন ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিভার অনন্য স্বাক্ষর রেখে গেছেন। সংগীতে নজরুল প্রতিভার স্বাভাবিক প্রকাশ ঘটেছে। তাঁর সৃষ্টিশীল ভাবাবেগের সুরমূর্তি প্রকাশিত হয়েছে সংগীতে। তাঁর প্রাণশক্তির উচ্ছলতার অভিব্যক্তি রূপায়িত হয়েছে সংগীত রচনায়। নজরুল কবিতা রচনার সাথে গানও রচনা করতেন। সংগীতের প্রতি তাঁর সহজাত আকর্ষণ শৈশবকাল থেকেই। লেটোর দলে যোগ দিয়ে তিনি গান লিখেছেন এবং সে গানে সুরারোপ করেছেন। পরিণত জীবনে তিনি গ্রামোফোন কোম্পানিতে চাকরি করেছেন, বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এই দুই প্রতিষ্ঠানের জন্য তাঁকে প্রচুর গান লিখতে হয়েছে, রচনা করতে হয়েছে অনেক সংগীতালেখ্য। নজরুলের মধ্যে কাব্য-প্রতিভা ও গীতি-প্রতিভার এক অভূতপূর্ব মিলন ঘটেছে। নজরুল-প্রতিভা সর্বাধিক সার্থকতা লাভ করেছে গান রচনার ক্ষেত্রে। বাংলা সংগীতের ঐতিহ্য অনুসরণ করেই নজরুল গান রচনা করেছেন। তাই তাঁর গান হয়ে উঠেছে বাণী ও সুরে ঐশ্বর্যমণ্ডিত। নজরুলের গানের সহজ, সরল ও স্বতঃস্ফূর্ত গুণ, ছন্দের বিচিত্রতা, মিলের সৌন্দর্য এবং অলংকার প্রয়োগের কুশলতা তাঁর গানগুলোকে করে তুলেছে হৃদয়গ্রাহী। তাঁর গানের বাণী ও সুর চমকিত তীক্ষ্ণধার, অতলস্পর্শী চিত্তহারী রূপ এবং হৃদয় মুগ্ধ করা ঔজ্জ্বল্য গুণে সমৃদ্ধ। গানে ছন্দ ব্যবহারেও তিনি ছিলেন এক দক্ষ কারিগর। কী মাত্রাবৃত্ত, কী স্বরবৃত্ত ছন্দ অপূর্ব মোহনীয় রূপে ধরা পড়েছে তাঁর গানে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.