নজরুলের নাম-কবিতার পটভূমি ও অন্যান্য তথ্য
Abstract
ব্যক্তি বিশেষের নাম কবিতার শিরোনামে উল্লেখ করে এবং একই সংগে শিরোনামোক্ত ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে লিখিত কবিতাই নাম-কবিতা। জীবিত বা মৃত যে কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে এ জাতীয় কবিতা রচিত হতে পারে। কবি যাঁর প্রতি প্রীত, প্রসন্ন ও শ্রদ্ধাশীল এবং যাঁর আদর্শ ও গুণরাজী তাঁকে আকৃষ্ট করে এমন ব্যক্তিই নাম-কবিতার বিষয়বস্তু হয়ে থাকেন। হৃদয়ের উষ্ণ প্রীতিতে ও পরম শ্রদ্ধায় কবি স্মরণ করেন ঐ ব্যক্তির স্মৃতি, কীর্তি, ভূমিকা ও অবদান। কবি নির্বাচিত ব্যক্তিকে কল্পনায় তাঁর চোখের সামনে এনে নাম-কবিতা রচনা করেন। সাধারণত বিশেষ কোনো উপলক্ষে (যেমন, জন্মবার্ষিকী, মৃত্যুবার্ষিকী, বিশেষ ঘটনা, যুদ্ধ জয় প্রভৃতি) এ জাতীয় কবিতা রচিত হয়। তাই স্বভাবতই এতে থাকে আবেগের আধিক্য এবং সে সূত্রেই থাকে ভক্তি ও উক্তির অকৃপণ অপরিমিতি। বিশ্বের অন্যান্য ভাষার মতো বাংলা ভাষায়ও নাম-কবিতার ঐতিহ্য রয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) সেই ঐতিহ্যানুসারী হয়েও ভিন্ন স্বাদ ও সৌন্দর্যের সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। বিপ্লবী রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণা, মানসিক ঔদার্য ও প্রাতিস্বিক জীবনাভিজ্ঞানে তাঁর নাম-কবিতাগুলো বিশেষ মর্যাদায় সংসিক্ত। ব্যক্তি বিশেষকে উদ্দেশ্য করে রচিত হলেও এসব কবিতায় তিনি উপনবিশে-শৃঙ্খলিত স্বদেশের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাই নানাভাবে তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন। ফলে এসব কবিতার একটা ভিন্ন উপযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে। শুধু নাম কবিতাই নয় - তিনি ‘চিত্তনামা' (১৯২৫) নামে একটি নাম-কবিতা গ্রন্থও রচনা করেছেন। আধুনিক কাব্য সাহিত্যে এ জাতীয় কাব্যগ্রন্থ একেবারে অভিনব।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.