রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল
Abstract
রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে পরিচয় যে নজরুলের কলকাতায় সাংবাদিক সাহিত্যিক জীবন সূচনার পূর্ব থেকেই, করাচি সেনানিবাস বা স্কুল জীবনেই ঘটেছিল, তার পরিচয় পাওয়া যায় করাচিতে রচিত ও কলকাতার বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর বেশ কিছু সংখ্যক গল্প ও উপন্যাস থেকে। ব্যথার দান, ‘হেনা' ‘বাদল-বরিষণে', ‘ঘুমের ঘোরে’, ‘অতৃপ্ত কামনা’, ‘রাজবন্দীর চিঠি, ‘রিক্তের বেদন', 'মেহের নেগার', 'সাঁঝের তারা' গল্প এবং পত্রোপন্যাস 'বাঁধনহারাতে প্রায় বিশ পঁচিশটি রবীন্দ্রসঙ্গীত বা কবিতার উদ্ধৃতি ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন – ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা', 'আমার সকল দুখের প্রদীপ', 'এখন ফিরাবে তারে কিসের ছলে’, ‘এমন দিনে তারে বলা যায়', 'আমার নয়ন-ভুলানো এলে’, ‘ওহে সুন্দর মরি মরি’, ‘অনেক পাওয়ার মাঝে মাঝে’, ‘ওগো দেখি আঁখি তুলে চাও’, ‘আমি বহু বাসনায় প্রাণপণে চাই', 'ঝরঝর ঝরিছে বারিধারা', 'তুমি জান ওগো অন্তর্যামী, ‘প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে, ‘দুর্জনে দেখা হল’, ‘ওগো কাঙাল', ‘কান্না হাসির দোল দোলানো, ‘অশ্রু নদীর সুদূর পারে', 'বেলা গেল তোমার পথ চেয়ে’, ‘হেরিয়া শ্যামল ঘন নীল গগনে', 'মনে রয়ে গেল মনের কথা', 'আরো আঘাত সইবে আমার', 'সখি, প্রতিদিন হায়' প্রভৃতি। বর্তমান শতকের দ্বিতীয় বা তৃতীয় দশকে রবীন্দ্র-সঙ্গীতের প্রচলন ছিল সীমাবদ্ধ। জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবার, ব্রাহ্মসমাজ, শান্তিনিকেতনের বাইরে রবীন্দ্রনাথের গানের প্রচার ছিল নিয়ন্ত্রিত। অথচ বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক গ্রামের দরিদ্র মুসলমান পরিবারের সন্তান নজরুল বিশ একুশ বছর বয়সে তাঁর কথাসাহিত্যে যে ভাবে রবীন্দ্র-সঙ্গীত ব্যবহার করেছেন তা থেকে এক পরিশীলিত, পরিমার্জিত, আধুনিক রুচির তরুণের পরিচয় পাওয়া যায়।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.