মুক্তিযুদ্ধের না-বলা কথা : হাসান আজিজুল হকের ছোটগল্প
Abstract
সাত'শ বছরের বিদেশী শাসনে বিজিত বাঙালি তার ক্ষত্রিয় সম্ভ্রম পুনরুদ্ধার করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে। দুই'শ বছরের ইংরেজ শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে যে স্বাধীনতার প্রাপ্তি ঘটে— তাতে গৌরব নয় গ্লানিই অধিক। অর্জিত নয় প্রাপ্ত স্বাধীনতার মাধ্যমে আজকের বাংলাদেশ, পাকিস্তান নামক নয়া ঔপনিবেশিক শাসনের বলয়ে বন্দী হয়। চলতে থাকে পুরোনো শোষণ নূতন মোড়কে। ধর্মের ঘেরাটোপে বাঙালির ওপর চলতে থাকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শোষণ৷ প্ৰবল দ্রোহে জেগে ওঠে গোটা বাঙালি জাতি। ভৌগোলিক স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ নয়-সমগ্রজাতির অর্থনৈতিক রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক তথা সার্বিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় সকল শ্রেণী পেশার বাঙালি মিলিত হয় একটি বিন্দুতে। তাই এ যুদ্ধ স্বাধীনতা যুদ্ধ নয়—মুক্তিযুদ্ধ। '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বড় অংশগ্রহণ ছিল এদেশের কৃষক এবং কৃষকের শিক্ষিত সন্তানদের। তাদের সার্বিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে সংঘটিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। কিন্তু নেতৃত্ব ছিল মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তের নিয়ন্ত্রণে। যুদ্ধের এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত সাফল্যের দখল চলে যায় বিত্তবান শ্রেণীর হাতে। মূলত নিম্নবর্গের রক্তের ওপর দিয়ে আগত যে বাংলাদেশ-নিম্নবর্গ সেখানে অনাহুত।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2002 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.